ইয়ুথ এসেম্বলি ও ফুড অর্গানাইজেশন

ঈদ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে তরুণ-যুবদের দল

৬৭ বছরের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি চাঁদপুরের বহরিয়া গ্রামে, চোখে দেখেন না, একাই থাকেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন নির্বাহ করেন; এখন সেটাও জুটছে না। পঞ্চগড়ের ইদ্রিস রিক্সা চালান। করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় ঘরে এখন একবেলা খাবার জোটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যশোরের রাশিদা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামীকে ঘরে রেখে কোথাও বের হতে পারছেন না। করোনার কারণে দুমাস হতে চললো কাজ নেই, বেতনও নেই। দিন কাটছে একবেলা খেয়ে-না খেয়ে। চট্টগ্রামের ফজলউদ্দিন বাসের হেলপার। সেই যে সরকারি ঘোষণায় বাস চলাচল বন্ধ হলো, সেই থেকে বেকার। বছর ঘুরে এদের সবার ঘরেই এসেছে ঈদ। কিন্তু আনন্দের লেশমাত্র নেই কারো পরিবারে।

পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকালেই চোখের পানি সামলাতে পারেন না কেউই। ঈদের ঠিক আগে নিজেদের সামান্য সামর্থ্য নিয়ে এদের দরজায় হাজির হয়েছে ইয়ুথ এসেম্বলি ও ফুড অর্গানাইজেশনের তরুণ-যুবদের দল।

ইয়ুথ এসেম্বলি ও ফুড অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে ২৩ মে ২০২০ দেশের ১০টি জেলা, যথাক্রমে ঢাকা, চাঁদপুর, রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, নাটোর ও যশোরের ১০০টি পরিবারের কাছে দুই প্যাকেট সেমাই, আধা কেজি চিনি ও আধা লিটার দুধের একটি করে প্যাকেজ পৌঁছে দিয়েছে ইয়ুথ এসেম্বলির মতিন, নোমান, নেসার, জামি, মেহেদি, শহিদুল, ইয়ামিন, সালাম, শুভ, রায়হান, আরাফাতরা।

যুবদের এই সামান্য উদ্যোগেই হাসি ফুঁটেছে রাশিদা আর ইদ্রিসদের পরিবারের সদস্যদের মুখে। হাসি ফুঁটেছে ইয়ুথ এসেম্বলির যুবদের চোখে-মুখেও। উল্লেখ্য, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের যুব উদ্যোগ ‘ইয়ুথ এসেম্বলি’ করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘ইয়ুথ এগেইন্সট কোভিড ১৯’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের অধীনে সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জেলায় অসহায় মানুষকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সতর্কীকরণ ও প্রচারণা, ওয়ান কল বাজার, সাবান ও মাস্ক বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠন ফুড অর্গানাইজেশন অনলাইনে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি নিজেদের অর্থায়নে ও সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করে অসহায় মানুষকে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে এ সময়ে।

মন্তব্য লিখুন :