জরিমানার পরেও চালের দাম আরো বৃদ্ধি

করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে চালের দাম বৃদ্ধি করায় নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ বাজারের ৪ চালের আড়ৎকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে এধরনের কর্মকান্ড না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিতাইগঞ্জ এলাকায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের নেতৃত্বে এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও কোন প্রকার নিষেধ মানছেনা ব্যবসায়ীরা। তারা তাদের ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করছে। জরিমানা করার টাকা সূদে আসলে ক্রেতাদের কাছ থেকে উঠিয়ে নিচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা।

সেই অভিযানে চালের দাম বেশি রাখায় মেসার্স আনোয়ার ট্রেডার্স ৪০ হাজার, মেসার্স পরশ মনি রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার ও মেসার্স সবুজ ট্রেডিংকে ৫ হাজার এবং মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো। এবং নিতাইগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি (জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) আব্দুল কাদীরকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে ইউএনও নাহিদা বারিক বলেছিলেন, আপনারা সরকার দলের লোক কিন্তু আপনাদের সামনে এভাবে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে আর আপনারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আপনার এখানে দায়িত্ব আছে। যাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে এবং করা হয়নি সকল দোকান মালিককে ডেকে এনে সতর্ক করে দিবেন। কেউ যাতে কোনো কিছুর দাম বেশি না রাখে। কিন্তু তবু বেশী দামে চাল বিক্রি করেছে ব্যবসায়ীরা ।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে মেসার্স নিউ এফ করিম রাইস এজেন্সি, ৩৫নং বঙ্গবন্ধু রোড, মন্ডলপাড়া থেকে একজন ক্রেতা ৫০ কেজির মিনিকেট চাউল ক্রয় করেন। কয়েকদিন পূর্বে যার মূল্য ছিলো ২৩০০ টাকা। কিন্তু সেই মিনিকেট চাউল ক্রয় করতে হয়েছে ২৬০০ টাকায়। দাম বেশী কেন এ কথা জিজ্ঞেস করায় বিক্রেতা বলেছেন, দাম আরো বাড়বে। ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করার পরেও দাম আরো বৃদ্ধি পায়। জনসাধারণের প্রশ্ন, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয় দাম বৃদ্ধির কারনে। কিন্তু ভ্রাম্যমান আদালত চলে গেলে দাম তার চাইতে আরো বৃদ্ধি পায়। তাহলে এমন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে লাভ কি ?

এদিকে ,করোনার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৬ ব্যবসায়ীকে ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে আড়াইহাজারের গোপালদী বাজারে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযানে গোপালদী বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মহসিনকে ৩০ হাজার, জুলহাসকে ১৫ হাজার ও সবুর উদ্দিনকে ১০ হাজার, চাল ব্যবসায়ী আলেককে ৮ হাজার, উত্তম সাহাকে ১০ হাজার, ফুয়াদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও সোহাগ হোসেন বলেন, ভোক্তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য আদায়ের অপরাধে অভিযান চালিয়ে ছয় ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে এজন্য নানা পদপে হাতে নিয়েছে বন্দর উপজেলা প্রশাসন। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে মাঠে নেমেছেন খোদ ইউএনও।

গতকাল সকালে বন্দর বাজার, রেল লাইন বাজার ও মদনগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় সতর্ক করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়াও তিনি ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা দোকানে ঝুলিয়ে রাখাসহ পণ্যের দাম ঠিক রাখার জন্য বলেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নির্দেশে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেন কোনো কারসাজির আশ্রয় না নেয়। যেখানে দাম বাড়ানোর অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই দোষীদের ভোক্তা আইনে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এবং প্রতিরোধে রূপগঞ্জে উপজেলা জুড়ে বিয়ে, সভা-সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিলসহ লোক সমাগম ঘটে এমন সকল ধরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। আগামী  ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে।  বিষয়টি সংবাদচর্চাকে নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। তিনি জানান, সরকারের নির্দেশ আমরা বাস্তবায়ন করছি। বাওনিয়া ও ব্রাহ্মণগাও দুটি বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। একটিতে শুধু মাত্র বিয়ে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুশরী এলাকায় একটি ওয়াজ বন্ধ করে দিয়েছি । শুক্রবার একটা ওয়াজ হওয়ার কথা ছিলো সেটাও বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি আরো জানান , যারা বিদেশ থেকে দেশে এসেছে তাদেরকে আমরা নজরদারিতে রাখছি।

অপরদিকে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার অপরাধে ৬ ব্যবসায়ীকে নগদ অর্থদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জামপুর ও সাদীপুর ইউনিয়নের নয়াপুর, তালতলা ও মহজমপুর  বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সোনারগাঁও উপজেলা  সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-মামুন।  তিনি জানান , হাটবাজারগুলোতে দোকানে  মূল্যতালিকা না রেখে উচ্চমূল্যে চাল,  পেয়াঁজ ও আলু বিক্রির অপরাধে উপজেলার জামপুর ও সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর, তালতলা ও মহজমপুর  বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮৪ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান  করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নয়াপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে ৫০ হাজার, পিয়াজ ব্যবসায়ী সোহেলকে ২০ হাজার, তালতলা বাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী রুহুল আমিনকে ৮ হাজার, নাজমুল মিয়াকে ২ হাজার, শরীফ মিয়াকে ১ হাজার ও মহজমপুর বাজারের পিয়াজ ও আলু ব্যবসায়ীকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আহসানউল্লাহ, এএসআই রিয়াজুদ্দিন রিয়াজসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য।

সহকারী কমিশনার আল-মামুন আরো বলেন, মূল্যবৃদ্ধির চলমান গুজবে কান না দেয়া, মাত্রারিতিক্ত মজুদ না করা, করোনা ভাইরাসের  বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা, বিদেশ ফেরত লোকদের সতর্ক অবস্থায় থেকে বাড়ি থেকে বাহির না হওয়া সহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন। নিয়ম অমান্যকারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের এ অভিযান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারে চলমান থাকবে।

এদিকে সোনারগাঁওয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের নেতৃত্বে দ্রব্যমূল্য যাচাইয়ে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে।

শনিবার দিনভর পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ মনিটরিং চালানো হয়।

সারাদেশে যখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ঠিক সে মুহুর্তে বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল,ডাল,সব্জিসহ অন্যান্য সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে। যে কারনে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো ইচ্ছে করলেও তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারছেনা।

এ বিষয়ে  ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চলে বাজার মনিটরিং করে ব্যবসায়ীদের কঠোর হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে যেন, কোন দ্রব্যমূল্য বাড়ানো না হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে এবং যে সকল ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্য বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :