আবার ফিরে আসতে চাই প্রাণের ক্যাম্পাসে

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক দেশেরই সরকার প্রধান তাদের দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেছে। আমাদের দেশেও সরকার প্রধান বন্ধ করে দিয়েছেন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ। এমন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করেছেন।

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে হয়েছিল ১২বছর পূর্বে ২০০৭ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীদের মধ্যকার সংঘর্ষের কারণে ঢাবির আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে হয়েছিল ২১ আগস্ট ২০০৭ সালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষর্থী আজ অবস্থান করছে নিজ নিজ বাসগৃহে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন ভ্যাকেশনে অনেক ছুটি কাটিয়েছি কিন্তু এবারের মতো এমনটা কখনো হয়নি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কেউই শান্তিতে, চিন্তা মুক্তভাবে ছুটি কাটাতে পারে না। যেমনি দেশ নিয়ে চিন্তিত ঠিক তেমনি আমরা প্রতিনিয়ত মিস করে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে। আমরা ফিরে যেতে চাই আমাদের কাছে দ্বিতীয় হোম (আশ্রয়) হিসাবে পরিচিত হল গুলোতে।

মেতে উঠতে চাই বন্ধু-বান্ধুবদের সাথে টিএসসিতে চায়ের আড্ডায়। আবার স্লোগানে মুখরিত করতে চাই মধুর ক্যান্টিন। বন্ধু-বান্ধুবদের নিয়ে বসতে চাই সেই বিখ্যাত বটতলায়। প্রিয়জনের সাথে নির্জন আড্ডা যেতে চাই কার্জনের সেই নির্জনতায়। রাতের আধারে পুরো ক্যাম্পাস চুটিয়ে বেড়াতে চাই। সকালে উঠেঁ কখনো নাস্তা করে আবার কখনো না করেই ক্লাস করতে চাই। দেখতে ইচ্ছা করে সেই সকল বন্ধু-বান্ধুবদের, যাদের সাথে কাটাতে হয় সকাল-সন্ধ্যা। আমি আবার ফিরে যেতে চাই সূর্যসেন হলের ২৪৩ নাম্বার রুমে।




যবে পরিবেশ শান্ত হবে

তবে তসলিমের (দোকান মালিক) তেহেরী খাবে!!

আম তলায় আজ আর যুগলদের দেখতে পাওয়া যায়না। শ্যাডোতে আর শীটের জন্য সকাল-সন্ধ্যা দৌড়াতে হয় না। মল চত্বরে আর বৃষ্টি বিলাস হয় না। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সমাজবিজ্ঞান চত্বরে আর বসা হয় না। কতদিন হল লাইনে দাঁড়াতে হয় না কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে পড়তে যাবো বলে। রাজুতে আর যৌক্তিক দাবির জন্য মানববন্ধন কিংবা অনশনে বসতে দেখা যায় না। পুরো ক্যাম্পাস আজ নির্জনতায় হাহাকার করছে। প্রেম চত্বর,পায়রা চত্বর, সবুজ চত্বর কিংবা ভিসি চত্বর সব-ই আজ জনশূন্যতায় ভূগছে। আজ আর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সমারহ দেখা যায় না।

দেশের যেকোনো কঠিন মুহূর্তে যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থীরা নিজেকে দেশের কাছে সোপার্ধ করেছে, আশা করি দেশের এই মহামারীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সোপর্দ করতেও দ্বিধাবোধ করবে না। স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজে সচেতন হয়ে নিজের পরিবার এবং গ্রাম কে করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

জানি পরিবেশ শান্ত হবে,প্রকৃতি আবার অনুকূলে আসবে। আমরাও আমাদের নিত্যদিনের কাজে ফিরে যাবো। কিন্তু সে সময় কবে আসবে, আর কতদিন সেই সময়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণতে হবে সেটা একমাত্র সৃষ্টি কর্তাই বলে দিতে পারেন।



মো. রাশেদুল ইসলাম

স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য লিখুন :