আমরা গর্বিত ড্যাফোডিলিয়ান, আলো ছড়িয়ে দেওয়া যোদ্ধা

শিক্ষা মানেই আলো, আর আমরা আলো ছড়িয়ে দিবো পুরো বিশ্বে- আসুক যতই অন্ধকার।

সীমান্ত যখন তীব্র অশান্ত, একজন সৈনিক জানে যেকোন সময় তার মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু সৈনিক ভয়ে পালায় না। কারণ পালালে তার যে মৃত্যু হবে, সে মৃত্যু হবে ঘৃণিত-পাশে থাকবে না কেউ। আর আমরা শিক্ষার্থী, আলোর সৈনিক আমরা। বিশ্বের এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আমরা কেন থেমে যাবো, আমরা আলো ছড়িয়ে যাবো। একদিন এই অন্ধকার কাটবেই, সেদিন আমরা হব প্রসংশিত, পড়বো বিজয়ে মালা।

বিশ্ব এখন করোনায় আক্রান্ত, থেমে যাচ্ছে অনেক কিছু। অবস্থাটা খুব ভালো না। সবার মনে আতঙ্ক, কখন কি হবে? আমি ড্যাফোডিলে সিএসই - তে পড়ি গর্বের সাথে বলছি, এই দুঃসময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় - আমাদের প্রিয় শিক্ষকরা আমাদের ভুলে যায়নি। আগে যেমন ভালোবাসার আদান-প্রদান হতো, এখনো ঠিক তাই আছে। একটুও কমেনি। 

আমরা সফল, আমরা জয় করেছি ভয় - অতঙ্ক। সব  পিছনে ফেলে ক্লাস করছি, শিখছি। শেখার যে পিপাসা তা বাড়ছে। সকাল সাড়ে আটটার ক্লাস, সাড়ে আটটাতেই শুরু হচ্ছে। স্যার অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। আমাদের সাথে গল্প করছেন - কেমন আছি? পরিবারের অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। আর কি চাই? এই বিপদের সময়ে, উনারা নিজেদের পরিবারকে রেখে আমাদের নিয়ে ব্যস্ত। 

কি হতো যদি ক্লাস না হতো? 

কিছুই হতো না। আমরা গর্ব করে বলতে পারতাম না, অন্ধকার যতই আসুক, আমরা থেমে যাইনি।

ড্যাফোডিল খুবই প্রসংশার দাবী, অনলাইন ক্লাসের জন্য। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় যখন সব বন্ধ করে দিয়েছে, তখনও আমরা ক্লাস করছি। বিশ্ব দরবারে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছি। বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেলে, এগিয়ে যাবো আমরা।

এসময়ে থেমে থাকার কোন প্রশ্নই আসে না। দুর্বল ইন্টারনেট, অনলাইন ক্লাসের লেকচার না বুঝা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না - এগুলো নিয়েই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। যারা পিছিয়ে পড়বে, তাদেরকে টেনে আমরাই তুলবো। তবুও এ সংগ্রাম চলবে। হাসপাতালে ডাক্তাররা সেবার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরা আলো ছড়িয়ে দেওয়ার যুদ্ধ চালাচ্ছি-চালিয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ, জয় আমরাই করবো।

শুনে অবাক হলাম, কিছু সেকশনে যাদের ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে সমস্যা হচ্ছে, বন্ধুরা সবাই মিলে তার পাশে দাড়াচ্ছে, তৈরী করেছে ফান্ড-তাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। অবস্থা স্বাভাবিক হলে সে টাকা ফেরত দিবে। কেউ বিলের পাড়ে বসে ক্লাস করছে, কেউ আম গাছের উপরে উঠে। আমরা শিখছি, যুদ্ধ কৌশল-শিখছি সকলে মিলে কিভাবে এগিয়ে যেতে হয়, তৈরী হচ্ছে দৃঢ় ভালোবাসার বন্ধন।

এই অসময়ে আমরা সকলেই একসাথে আছি, এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। 

শিখবো, শিখাবো, গল্প করবো, ভালো থাকবো, সকলকে ভালো রাখবো। ভালো থেকো সবাই। 

‘আমরা গর্বিত ড্যাফোডিলিয়ান, আলো ছড়িয়ে দেওয়া যোদ্ধা’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশিদুল হাসান হৃদয়ের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

মন্তব্য লিখুন :