করোনা ভাইরাসের ইতিহাস মোটেও নতুন নয়

গবেষকরা পৃথিবীর ব্যাপারে দুটো কথা বলে থাকেন। এক, যদি তৃতীয় বিশযুদ্ধ হয় তবে সেটা হবে পানি নিয়ে এবং দুই, যদি পৃথিবী ধ্বংস হয় তবে সেটা হবে ভাইরাসের কারণে।

গেল বছরের ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহতা আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। সেই দগদগে ক্ষতের মধ্যে এবার এসেছে আরেক ভাইরাস—করোনা। যেহেতু এবার এনিয়ে খুব মাতামাতি হচ্ছে, তাই অনেকের ধারণা এটি হয়তো সম্পূর্ণ নতুন কোনো ভাইরাস। যদিও মোটেও তা নয়, বরং ১৯৬০ সালে প্রথমবার সাপ থেকে করোনা ভাইরাসের আবিষ্কার হয়।

এটি একটি SARS গ্রুপের ভাইরাস। প্রথম ২০০৩ সালে মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। যা human coronavirus 229E নামে পরিচিত। পরিবর্তিতে ২০০৪, ২০০৫ এবং ২০১২ সালে জেনেরিক মোডিফিকেশন ঘটে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে WHO নোভেল করোনা ভাইরাস আবিষ্কার করেন। যা n-COV নামে পরিচিত।

এর উপসর্গগুলো হচ্ছে জ্বর, অবসাদ, শুকনো কাশি, নিউমোনিয়া, কিডনি ফেইলিউর এবং সর্বশেষ মৃত্যু।

এই ভাইরাসটির সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় এটি মানুষের সংস্পর্শে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটির উৎপত্তিস্থল হুবাই প্রদেশের উহান শহরের সী ফুড মার্কেট। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে উহান শহরে সামুদ্রিক একটি খাবারের কথা বলা হচ্ছে। শহরটির একটি বাজারে গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই বাজারটিতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হতো। কিছু সামুদ্রিক প্রাণী যেমন বেলুগা জাতীয় তিমি করোনা ভাইরাস বহন করতে পারে। তবে উহানের ওই বাজারে মুরগি, বাঁদুড়, খরগোশ এবং সাপ বিক্রি হতো। তাই মূলত এই গোত্রীয় প্রাণীবাহিত হয়ে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তবে আশার কথা হলো এই ভাইরাসকে শুরু থেকেই খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটার উৎপত্তি হয়েছিল যেখানে অর্থাৎ উহান প্রদেশকে পুরোপুরি লকড করে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ সেখানে যেতে পারছেন না। ভেতরের কেউ পারছেন না বাইরে আসতে।

ইতোমধ্যে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের দুটি বিশেষায়িত টিম এর প্রতিষেধক বের করার চেষ্টা করছে। থেমে নেই চীনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও। তারাও এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের একটি মহল দাবি করছে তারা কিছু প্রাথমিক সফলতাও পেয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন :