মৃত্যুও আজ সৌন্দর্যতা হারিয়েছে!

শরৎ বাবুর 'বিলাসী' গল্পের নায়িকাকে আমরা দেখতে পাই মৃত স্বামীর কাছে একরাত অতিবাহিত করতে বলা হলে "ওরে ন্যাড়া আমি একলা থাকতে পারবােনা" বলে চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে। লেখক সেখানে অট্টহাসি দিয়ে বলেছিলেন- হায়রে বিলাসী ২৫ বছর যার সাথে একঘরে বসবাস করলে আর আজকে মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর সাথে একটি রাত থাকতে পারলেনা!! (সুত্র- বিলাসী, লেখক-শরৎ চন্দ্র)।

দীর্ঘদিন যে স্বজন- ভাই, স্বামী, সন্তান বিদেশে থেকেছে, দিনের পর দিন যে স্বজনের জন্য আত্বীয়-স্বজন অপেক্ষায় থেকেছে কবে আসবে আমার ভাই, স্বামী, সন্তান!! যে সন্তানের বা স্বামীর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে পরিবার বা স্ত্রী। আজ সেই সন্তান যখন প্রাণঘাতী রােগ নিয়ে দেশে এসেছে তাঁকে রেখে স্ত্রী, আত্বীয় স্বজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই রােগ প্রমান করে দিলাে, পৃথিবীতে নিজের জীবন সবচেয়ে দামী, নিজের জীবনের প্রতি প্রেম সবচেয়ে চিরন্তর, মধুর, নিরেট ও অমলীন! অন্য সব প্রেম, সব ভালবাসা আসলেই প্রয়ােজনের ভালবাসা, প্রয়ােজনের প্রেম।! সুতারাং সাধু সাবধান!! প্রেমের মরা এবার জলে ডুববেই। পৃথিবীর কােন সংগীত, যাদু কিংবা টান এখন আর কাজে আসবেনা।  

মানুষ মাত্রই মরণশীল, পবিত্র কােরআন পাকেও মহান রাব্বুল আলামীন ঘােষণা করেছেন- 'প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে'। আমিও চাই সেজদারত অবস্থায় আমার মৃত্যু হােক। আমার মৃত্যুর পর কেউ না কাঁদলেও শত শত মুমিন-বান্দা এসে আমার জানাযার নামায পড়ুক। আমাকে বড়ই পাতা, নীমপাতার গরম পানিতে গোসল করিয়ে, সুঘ্রাণ মেখে সাদা কাপঁড় পড়িয়ে পরম মমতায় চির-শয়ণের স্থানে রেখে আসুক, কােরআন তেলােয়াত হােক আমার চির-শয়ণের পাশে। আমার মৃত্যুটি হােক মুমিন-বান্দার মতাে, সে মৃত্যুতে থাক শান্তির স্নিদ্ধময় সৌন্দর্য। নিশ্চয় মানুষই মাত্রই চায়, তাঁর সৌন্দর্যময় মৃত্যু!! এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।।

তবে কেন, এই মহামারী! এই নােভেল করােনা ভাইরাস?? এর অনেক অনেক কারণ রয়েছে। মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে, প্রকৃতি তাই একটু প্রতিশােধ নিয়েছে। যদি ভবিষৎতে আরাে করা হয় তাহলে এমন দুর্যােগ, এমন মহামারী বারবার ফিরে আসবে। সমাজে অনাচার, দুর্নীতি, কালাে টাকার পাহাড়, সুদ-ঘুষ, রাহাজানি, অন্যের সম্পদহরণ, হানাহানি এতাে বেড়ে যাচ্ছিলাে যে এটা সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে।

মানুষ যদি এরপরও মহান আল্লাহ্কে ভয় না পায়, শুধু ভাইরাসকে ভয় পাই, তাহলে হয়তাে এরপরে এরচেয়ে বড় বড় ভাইরাস আসবে। সেদিন আর পালােনাের পথ হয়তাে থাকবেনা। এই সামান্য ভাইরাস পৃথিবীকে তালমাটাল করে দিয়েছে, মৃত্যুর যাবতীয় সৌন্দর্য এক নিমিষেই উড়িয়ে দিয়েছে। কেউ মৃত ব্যক্তির কাছে যাচ্ছেনা, তাঁর কবর পর্যন্তু দিতে রাজি হচ্ছেনা। তাই আসুন, আল্লাহ্ পাকের পথে ফিরে আসি, ধনী-গরীবের ব্যবধান কমিয়ে আনি। নিজে সৎ থাকি, অন্যকে সৎ থাকতে উৎসাহ প্রদান করি।


মাে: রিয়াজুল ইসলাম

প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় 

মন্তব্য লিখুন :