মৃত্যুপুরীর মৃত্যুর মিছিলে যারা!

মৃত্যুপুরীতে মৃত্যুর মিছিলে শরীক যারা তারা আজ সবাই মৃত্যুকে বরণ করে নিতে মাঠে নেমেছে। ক্লান্ত হয়ে পড়েছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। আমরা যে এখনো কতটা দরিদ্র ও অসহায় জাতি তা করোনাভাইরাস আবারও বুঝিয়ে দিলো। আজ চারিদিকে ত্রাণের জন্য হাহাকার! কাজের জন্য মানুষের আর্তনাদ। অকারণে অলসদের ঘুরেফেরা আর সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখায় মৃত্যুর মিছিল বড় হয়ে চলেছে বাংলাদেশে। 

আমাদের এমন একটি দেশ, যেখানে বিদেশ ফেরতরাই দেশটাকে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকিতে ফেলে দিল। তারা কোয়ারেন্টাইন না মেনে আজ এই দেশটাকে বিপদাপন্ন করে দিল। 

আমাদের নেই কোন সুরক্ষা উপকরণ। করোনা আক্রান্ত রোগীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পুলিশ, ডাক্তার, প্রশাসনকে দেওয়া হল। কিন্তু তাদের দেওয়া হল না কোন সুরক্ষা উপকরণ। আজ সারাদেশে পুলিশ ও ডাক্তার করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। করোনা যুদ্ধে শরীক হলে সেই যুদ্ধের জন্য ন্যুনতম হাতিয়ার কই?

করোনায় আক্রান্ত হলে সমাজ তাকে বয়কট করছে। করোনা সন্দেহে সন্তানেরা ফেলে যাচ্ছে গর্ভধারিণী মাকে, বাবাকে প্রত্যাখান করছে সন্তানেরা। আর করোনায় মারা গেলে কবর! সেটা তো পুলিশ ছাড়া সবাই ভো দৌড়!  একটি গানের লাইন বলি,

"তোমার মরণকালে কাঁদবে যে জন

সে জন তোমার আপনজন।

থাকতে জীবন যায় না চেনা মানুষেরই মন!"

আজ করোনা আক্রান্ত হলে তার পাশে কেউ নাই। মানসিক শক্তি দেওয়া বা শান্তনা দেওয়ার কেউ নাই। করোনায় আক্রান্ত মৃত্যু যেন ভয়ংকর! অথচ এই লোকটার উপার্জনেই চলতো সংসারের চাকা। অন্তত নিরাপদ দুরত্বে থেকে চোখের দেখাটাও কেউ দেখে না। পৃথিবীর মানুষ যে কতটা নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। 

এদেশের কিছু আক্রান্ত ব্যক্তি করোনার বাহক হিসেবে কাজ করছে। তারা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে সরকারকে জানাচ্ছে না। বরং কেউ কেউ আবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের জন্য সুন্দরবনে কারাগার বানানো গেলে ভাল হতো। কারন এরা আমাদের গোটা দেশটাকে বিপদাপন্ন করে দিচ্ছে। 

মৃত্যুর মিছিল কত বড় হবে তা অনুমান করতে আর কষ্ট হচ্ছে না। দেশের মানুষ যেহেতু লগ ডাউন মানে নাই এবং দেশের সব জেলাই অনিরাপদ হয়ে গেছে তখন আর খুব বেশি পরিত্রাণের আশা করা যায় না। মৃত্যুর মিছিলে শরীক হতে পারে যে কেউ। 

ছবি: শামীম হাসান, এস.আই

করোনা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়। কিন্তু করোনা আক্রান্ত রোগী হতে অন্যদের নিরাপদ রাখতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে যা করার দরকার তা যথাযথভাবে করা হয় নি।

গরীব ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে ঘরে রাখার জন্য সরকার ও সমাজসেবীরা পদক্ষেপ নিলেও দেশের এই দুর্দিনে চাল চোর, ডাল চোর, তেল চোর আর টাকা চোরেরা সে পদক্ষেপ নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে দরিদ্র মানুষগুলোর নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছিল ১৪ দিনের লগ ডাউন। কিন্তু তা হয়নি। এখন আর কতটুকোই বা করার আছে!

জীবনটাকে ভালবেসে আরো কিছুদিন সুন্দর এই পৃথিবীর আলো বাতাসে থাকতে চাইলে ঘরে থাকুন। 

মৃত্যুই নিশ্চিত, জীবন অনিশ্চিত। মৃত্যুই স্বাভাবিক, জীবন অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যময়। কারন হাজারো মৃত্যুর ফাঁদে আমরা টিকে আছি এটাই বিশাল ব্যাপার। মরতে একদিন সবাইকেই হবে। কিন্তু করোনার এই আক্রমনে কারো মৃত্যু হবে যদি কেউ জানতো সে হয়তো আর বাইরে বের হতো না। চোখের সামনে দেখছেন মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে। অসচেতন হলে এই মৃত্যু যে কারো হতে পারে। তাই জীবনকে ভালবাসুন। পৃথিবীতে বেঁচে থাকুন পাপ মোচনের জন্য, আল্লাহর ইবাদত আর দাসত্ব করার জন্য। মৃত্যু যেহেতু ছুঁয়ে যাচ্ছে বাতাসে, সেহেতু মৃত্যুর মিছিলে শরীক না হয়ে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। 


জনস্বার্থে 

শামীম হাসান

এস.আই 

বাংলাদেশ পুলিশ

মন্তব্য লিখুন :