২০২০-২১ অর্থবছর: করোনাকালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ভাবনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বোত্তর সময়কাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এনজিও একটি আলোচিত ও আলোড়নের বিষয়। বিশ্বের উন্নায়নশীল দেশসমূহের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এর লক্ষ্যে এনজিও কার্যক্রমের বিকাশ ঘটে। তেমনই বাংলাদেশ সত্তর দশক থেকেই সরকারের পাশাপাশি দেশের আর্থিক ও সামাজিক উন্নায়ন কথা বিবেচনা করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাহিদার উপর নির্ভর করে বাৎসরিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

বাংলাদেশ এক অপার সম্ভাবনার দেশ হিসাবে গত কয়েক বছর যাবৎ অন্যান্য দেশ এর নিকট ভালই তকমা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, আর এই অর্থনীতি নগর ও গ্রাম এর পাথ্যর্ককে বড় হতে দেয়ণি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান।

গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যখনই ক্রমশই বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে, তখণই কোভিড-১৯ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল মানুষকে নতুন ভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ১৯৭১ পরবর্তী যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশকে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্টানের সামাজিক ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭০ দশকের মাঝামাঝি সময় গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক সহ অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠনই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম এর মাধ্যমে গ্রামীন অর্থনীতিতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে আসছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি এর নিবন্ধন কৃত আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় ৭৫৮টি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান আছে,যার মধ্যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের সংস্থা ব্রাক, আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ, এস,এস,এস,আম্বালা ফাউন্ডেশন ও ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক), ব্যাংক ও পিকেএসএফ এর সোহযোগিতায় কৃষি ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছিল।

২০০৯ সালে বিশ্ব মন্দা কাটিয়ে ২০১০ এর পরবর্তী সময় বিশ্ব অর্থনীতির গতিশীলতা ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়ীক চিন্তা ভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ার ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা অধিকাংশে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোগ এর মানদন্ড ধরে রাখতে না পারার ফলে সমসাময়িক অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসা, গাড়ী ক্রয়, বাড়ী নির্মান খাতসহ পরিবারের আসবাবপত্র ক্রয় খাতে ৭০শতাংশ এর বেশি ঋণ প্রদানের বাৎসরিক পরিকল্পনা করে আসছিল।

কেমন হবে কোভিড-১৯ সময়কালে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক পরিকল্পনা। এই ভাবনা নিয়েই আমার আজকের লেখা। আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে ১৯৯০ সালে যে রুপরেখা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। যেখানে গ্রামীণ ও শহরের দারিদ্র সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে মধ্যোম মানে তুলে আনার এক প্রয়াস। জামানত বিহীন ঋণ কার্যক্রম এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে পিকেএসএফ এর সহোযোগি সংস্থা গুলোর কার্যক্রম চলমান ছিল। যা বর্তমানে পিকেএসএফ এর সহোযগিতায় ২৭৮টি সংস্থা ১০,১৬০টি শাখার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২০২০-২০২১ অর্থবছর হয়তোবা আমাদের কোন পরিকল্পনা কাজে আসবেনা ভেবেই পরিকল্পনা করতে হবে কেমন হওয়া উচিত গ্রামীন অর্থনীতির সঞ্চালক হিসাবে কাজ করা ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর । ধরুন সংস্থা তার ১টি শাখায় আগামী অর্থ বছরের জন্য ১২ কোটি টাকার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা ঋণ বিতরন পরিকল্পনা স্থির করে দেখা যায় ৬ মাস পরে ২কোটি টাকা ঋণ বিতরন বাস্তবায়ন হয়েছে, এই অবস্থায় আমাদেরকে অবশ্যই নতুন করে পরিকল্পনা পূর্নঃমূল্যায়ন করতে হবে। আর এজন্য বার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি আমাদেরকে তৈরি করতে হবে ত্রৈমাসিক, মাসিক এমনকি সাপ্তাহিক ছায়া ব্যাবসায়ীক পরিকল্পনা।

কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিব ২০২০-২০২১ অর্থবছরের আর্থিক পরিকল্পনায়। আমাদেরকে টেকসই উন্নায়ন লক্ষমাত্রা বিবেচনা করে কৃষি উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদিত পন্য সামগ্রী ক্রয় বিক্রয় খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি করতে হবে আগামী দিনের আর্থিক পরিকল্পনা। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত। আমাদের মোট জন সংখার শতকারা ৭৫ ভাগ কৃষির সাথে জড়িত এছাড়া মোট শ্রমশক্তির ৬০ ভাগ কৃষিতে নিয়জিত। এজন্য আমাদেরকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহ লাভ ক্ষতির হিসাব না করে কৃষি অর্থনীতির মাধ্যমে এই স্লোগান নিয়ে কাজ করি “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ শস্য শ্যামলা  বাংলাদেশ”।

পরিশেষে আমি বলব আমাদেরকে ২০২০-২০২১ কে লাভ বা ক্ষতির পরিকল্পনা না করে বেঁচে থাকার পরিকল্পনা করাই ভাল, সেই সাথে জতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, লক্ষ্যমাত্রা ও সূচক এর দিক খেয়াল রেখে কৃষি, কৃষি উৎপাদনশীলতা বিবেচনা করে গ্রামীন সাধারণ পরিবারকে মধ্যোম মানে উন্নতি করা হোক আমাদের লক্ষ্য।


মোঃ ইনামুল হক মিনা

সহকারী পরিচালক

VERC


লেখাটিতে লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত প্রকাশিত হয়েছে, যা ঢাকা নিউজ৭১ এর মতামত প্রকাশ করে না।

মন্তব্য লিখুন :