নওগাঁয় পুরোনো মাইক্রোবাসে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা

নওগাঁয় চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্বল্পতার কারণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে আসা রোগীরা তাদের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট থেকে পরিত্রান চেয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘গ’ সিরিয়ালে প্রাইভেটকার এবং ‘ঠ’ সিরিয়ালে পিকআপের রেজিস্ট্রেশন থাকে। এছাড়া ‘ছ’ সিরিয়ালে হয় অ্যাম্বুলেন্স রেজিস্ট্রেশন। আর ‘ছ’ সিরিয়ালে ‘৭১ ও ৭৪’ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর হবে। এ সিরিয়ালে যেসব অ্যাম্বুলেন্স থাকবে না সেগুলো মাইক্রোবাস বা অন্যকোন যানবহন কেটে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বেআইনী। 

জানাগেছে, নওগাঁ সদরে ২৬টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ মাইক্রোবাস কেটে অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর স্থায়ী শয্যা, চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা, অক্সিজেন সিলিন্ডার-মাস্ক, স্ট্রেচার ও সাইরেন থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। পুরনো ফিটনেসবিহীন ও লক্কর-ঝক্কর মাইক্রোবাস কেটে পরে অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা হয়েছে। মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করে রোগী পরিবহনের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্রটি। 

রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁ সদর ২৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে একটি মাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। প্রায়ই সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। আর এ সুযোগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স একটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে উঠেছে। যারা সেবার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারনা করছেন। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এসব অনিয়মের কোন প্রতিকার নাই।

সদর উপজেলার নিন্দইন গ্রামের আশরাফুল ইসলাম রতন বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তার ৭ দিনের মেয়ে বাচ্চা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ডাক্তার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া নিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক দরকষাকষি হয়। অবশেষে সরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার কথাবার্তা চলতেই বাচ্চাটি মারা যায়।

বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বিপ্লব বলেন, তিনি ল্যাব এইড ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্সের চালক। অ্যাম্বুলেন্সটির আগে মাইক্রোবাস ছিল। মাইক্রোবাস পুরাতন হয়ে যাওয়ায় পরে সেটিকে অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা হয়েছে। তবে লাইসেন্স রয়েছে মাইক্রোবাসের নামে। আমাদের যে সমিতি আছে আমরা অ্যাম্বুলেন্স চালকরাই সিরিয়াল নিয়ন্ত্রন করে থাকি। নওগাঁ থেকে রাজশাহীতে ভাড়া ২ হাজার ৯০০ টাকা। অক্সিজেন লাগলে বা না লাগলেও একই ভাড়া। যা ভাড়া সেটাই আমরা নিয়ে থাকি। কোন ধরনের সিন্ডিকেট আমরা করিনা বা রোগীদের কোন ভোগান্তীর মধ্যে ফেলি না।

নওগাঁ ল্যাব এইড ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এর মালিক জমিস উদ্দিন বলেন, আগে মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্টো-চ -১৩-৬৪৮১) ছিল। পরে সেটাকে মেরামত করে অ্যাম্বুলেন্স করা হয়েছে। গত ৪ মাস আগে অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরী করা হয়েছে। তবে লাইসেন্স রয়েছে মাইক্রোবাসের নামে। রোগী আনা নেয়ার সুবিধার জন্য এমনটি করা হয়েছে। যা ভাড়া সেটাই নেয়া হয়।

শহরের পার-নওগাঁ অ্যাম্বুলেন্স মালিক মিলন হোসেন বলেন, গত এক বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি কিনেছি। যা প্রকৃতপক্ষে অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা-মেট্টো-ছ-৭৪-০০৪০)। জেলায় প্রায় ২৬ টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যার মধ্যে বৈধ অ্যাম্বুলেন্স আছে ১৩টি। যারা মাইক্রো থেকে অ্যাম্বুলেন্স করেছেন তা অবৈধ।

নওগাঁ জেলা কার মাইক্রোবাস চালক কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক লিটন রহমান বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা সিরিয়াল নিয়ন্ত্রন করেন। কিছু অ্যাম্বুলেন্স আছে যেটাতে রোগী যেতে ইচ্ছুক না। কিন্তু সিরিয়ালের কারণে ওই অ্যাম্বুলেন্সে রোগী যেতে বাধ্য হয়। এটা একটা সিন্ডিকেট। যা অমানবিক। পুরাতন মাইক্রোবাসকেটে অ্যাম্বুলেন্স করা অবৈধ। 

নওগাঁ বিআরটিএ সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মো: মিনহাজ উদ্দিন বলেন, যে মাইক্রোবাসটি ইমপোর্ট হয়ে আসে সেটাকে অ্যাম্বুলেন্সে রুপান্তর করা যায়না। কারণ রেজিস্ট্রেশন একবারই হয়। মাইক্রোবাস কেটে অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা অবৈধ। অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করার বিষয়টি আমরা অবগত নয়। অসাধু চক্র এটা করতে পারে। মাইক্রোবাস কেটে যদি অ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা হয় তাহলে ফিটনেস ও রেজিট্রেশন বিহীন অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :