ভালুকায় বন বিভাগের জায়গা দখল, অতঃপর মামলার পাহাড়

ময়মনসিংহের ভালুকা বন বিভাগের হবিরবাড়ি মৌজার সিডস্টোর আমতলী এলাকায় প্রায় শত শত কোটি টাকার জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে স্থানীয় ভূমি খেকোরা। এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পরেও স্থানীয় বন বিভাগ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। এ দখলবাজির প্রেক্ষিতে বন কর্মকর্তারা কয়েক হাজার মামলা দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ী মৌজার হবিরবাড়ী বাজার সংলগ্ন ১৫৪ নং দাগের ২০১ একর বনভূমি দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় ১০৯ থেকে ১৬০ জনের একটি ভূমিখেকো সিন্ডিকেট। তারা ৫ থেকে ৬ টি দোকান নির্মাণসহ সেখানকার পেছনের বিশাল খালি জায়গাটিতে রিং কালভার্ট নির্মাণ কারখানা স্থাপন করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এ বিষয়টি সরকার দলীয় এমপি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ভালুকা বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক, রেঞ্জ কর্মকর্তা, বীট কর্মকর্তাগণকে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত বনের জমি দখলমুক্ত কিংবা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।

গত ২০ ফেব্রুযারী হবিরবাড়ী এলাকায় গেলে কথা হয় ভালুকা বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ভালুকা বনভিাগে ২৩ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি সংরক্ষিত রয়েছে। অথচ বাকি ১৫ হাজার একর বনভূমি দখল হয়ে গেছে। এ দখলকারী কারা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয়ে কৌশলী উত্তর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। দখলবাজ ভূমিখেকোদের নিয়ে কথা বললে উল্টো বিপদে পড়তে হবে। আর এসব বিষয়ে থানা পুলিশ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।

তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ভূমিখেকোদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের নিবিড় যোগসাজশ রয়েছে।

ভালুকার এক শিক্ষক জসিম তালুকদার জানান, সরকারের শতশত কোটি টাকার সম্পদ বনবিভাগের অবহেলার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভালুকার সংরক্ষিত বনভূমি এখন বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বনবিভাগের সম্পত্তি উদ্বার করার জন্যে তিনি সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম মানিক জানান, ১৫৪ দাগে ২৯৪ একর জমির মধ্যে জেলা প্রশাসকের ১ নং খাস খতিয়ানে এসব জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দখলবাজ চক্রটি সকল জমি তাদের দখলে নিয়ে রাতারাতি কাগজ তৈরী করেছে।

এ কাগজের ভিত্তিতেই তারা বনের জমি দখল করে নিয়ে নিজেদের মালিকানা দাবী করছে। তিনি আরো জানান, বনের জমি দখলের ঘটনায় শত শত মামলা হয়। চলতি বছরে বীট কর্মকর্তা লোক দেখানো একটি মামলা করেন। ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের পাশে আমতলী এলাকায় ভালুকা বনরেঞ্জ থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে হবিরবাড়ী মৌজায় বনবিভাগের বনভূমি অবৈধভাবে বাউন্ডারী শহীদ দখল করে নেয়।

উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার কৃষক জুয়েল মিয়া জানান, বাউন্ডারী শহীদ বিএনপি করেন। কিন্তু বর্তমান আওযামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও তার প্রভাবে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করতে সাহস পায় না। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বাউন্ডারী শহীদ গোটা এলাকায় এক আতঙ্কের নাম। এক এগারো ও পরবর্তী সময়ে অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হলেও থামেনি তার বেপরোয়া দখলবাজি। তার জিরো থেকে হিরো হওয়া, রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার ঘটনার খবর স্থানীয় জনসাধারণের মুখে মুখে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ কে এম রুহুল আমিন জানান, গত বছরে ময়মনসিংহ বনবিভাগে রীড মামলা ৫৮, সিভিল রিভিশন মামলা ২৫, দেওয়ানি মামলা ১২৫, পিওআর মামলা ১৮১০, ইউডিওআর মামলা ১৫৫, সার্টিফিকেট মামলা ৩০, অন্যান্য মামলা ৪ দায়ের করা হয়। ছয়টি মামলা বনবিভাগের পক্ষে রায় হয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গত ৪-১২-১৯ ইং তারিখ ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আমিনের স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর প্রেরণ করেন।

মন্তব্য লিখুন :