লন্ডভন্ড উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা এবং বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অনেক চাষির মাছের ঘের।

শহরের পুরান বাজার, নিউ মার্কেট, সেন্টার পাড়া, ৯নং ওয়ার্ড ও পৌর এলাকার বেশ কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। জেলার দশমিনা, গলাচিপা, রাঙাবালী ও কলাপাড়া এলাকার ৫০টি চর প্লাবিত হয়েছে। বুহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পটুয়াখালীতে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে কিছুটা বাতাসও রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে যেসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা বাড়ি ফিরেছেন।  

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে পটুয়াখালী জেলায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কলাপাড়ায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) টিম লিডার শাহ আলম (৬০) নৌকা ডুবে নিখোঁজ হলে পরে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। অপরদিকে গলাচিপার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা গ্রামে শাহাজাদার ছেলে রাশাদ (০৫) আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গাছের ডাল পড়ে মারা যায়। 

রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিম্নাঞ্চল ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বেঁড়িবাধের বাইরে থাকা কয়েক হাজার বাড়ি ঘর পানিতে ডুবে গেছে। গলাচিপার পানপট্টি বাজারের ১০/১২টি দোকান উপড়ে পড়ে। দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পায়রা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করে উত্তর পাংগাশিয়া, দক্ষিণ পাংগাশিয়া, রাজাগঞ্জসহ অন্তত পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পায়রা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কলাপাড়ার ২০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ব্যবস্থা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে গ্রহন করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে তিন লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল এবং তাদের সার্বক্ষনিক দেখাশুনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগীতা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন :