লক্ষ্মীপুরে

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, জাটকাসহ আটক ৫

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করায় মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশের নিয়মিত যৌথ অভিযানে ৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃত প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন সুলতানা। 

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইলিশের অভয়াশ্রম হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর একশ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড, জরিমানা ও উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনার নদীর রায়পুরের বিভিন্ন স্থানে জেলেরা মাছ শিকারে নেমেছে। 

সরকারি আইন বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশের নিয়মিত যৌথ অভিযানে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জেলেকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪০ মণ জাটকা, দুটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা, জাটকা পরিবহণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত দুটি ভ্যানগাড়ি ও ১০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্টজাল জব্দ করা হয়।

পরে জনসম্মুখে জালগুলো পুড়িয়ে বিনষ্ট ও নৌকাগুলো মৎস্যবিভাগের জিম্মায় রাখা হয়। জব্দকৃত জাটকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামায় ৫ জেলেকে জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মাছ এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অভয়াশ্রমে ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি আইন বাস্তবায়নে প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনে লক্ষ্মীপুরের মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরায় ১১ টি মামলায় ২৭ জনের জেল হয়েছে। এরমধ্যে ৯ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। বাকিরা জামিনে আছে। ২ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দকৃত প্রায় আড়াই টন জাটকা বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন :