নদীর ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন

শুকনো মৌসুমে জরুরী ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ভাঙন রোধে তীর রক্ষার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চর-সিতাইঝাড় এলাকায় ধরলার বামতীরে অনুষ্ঠিত তিন ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে স্থানীয় হাজারও নারী-পুরুষসহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। 

আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই ধরলা নদীর বামতীরে সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের ফজলের মোড় থেকে চর-সিতাইঝাড় নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের মাধ্যমে ৩টি ওয়ার্ডের ঘর-বাড়ি, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চর সিতাইঝাড় নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল গফুর, সাবেক ইউপি সদস্য কেরামত আলী, পল্লী চিকিৎসক আমির হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা দারোগ আলী, ইউনুছ আলী, শাওনসহ অন্যান্যরা।

এসময় বক্তারা বলেন, সদরের মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড়সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধরলার বামতীরে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত ৬ বছর ধরে তীর রক্ষায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে করে প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে এসব এলাকায় শতশত ঘর-বাড়ি ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অথচ ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। এবার শুকনো মৌসুমেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম ও বিভিন্ন স্থাপনা। আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই জরুরী ভিত্তিতে তীর রক্ষার কাজ করে ধরলার ভাঙ্গন রোধের দাবি জানান তারা।

এছাড়াও মাববন্ধনে অংশ নেয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানান, "হামাক গুল্যাক নদীর ভাঙন থাকি বাঁচান বাহে। গত কয়দিন থাকি নদী হামার সোগ খাইলো। হামাক দেখার কাইও নাই বাহে।"

এই ভাঙনে মসজিদ, বিদ্যালয়, কৃষি জমি, ঈদগাহ মাঠ, ঘর-বাড়িসহ সবকিছু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙন প্রতিদিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। 

মন্তব্য লিখুন :