চলমান লকডাউনে

ধামরাইয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়ায় সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশের চলমান লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলতে চায় ধামরাইয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

লকডাউনের খবরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ধামরাইয়ের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষের। অন্যদিকে যারা দিন এনে দিন খায় অবস্থা তাদের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। 

লকডাউনের শুরুর সকালে সোমবার (০৫ এপ্রিল) ধামরাই বাজার, ইসলামপুর, কালামপুর বাজার, জয়পুরা বাজার ও শ্রীরামপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শপিং মলের দোকানদার ও ফুটপাতের দোকানি সকলেই দোকান বন্ধ থাকায় আক্ষেপ করছে এবং সকলের চোখে মুখেই চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া রিকশা চালকসহ বেশ কয়েকজন নিম্ন আয়ের মানুষ জানায়, একদিন কাজ না করলে তাদের মুখে খাবার জোটে না, লকডাউন হলে তাদের পরিবার কীভাবে চলবে? পরিবারের খাবার আসবে কোথা থেকে? এসব চিন্তায় মলিন নিম্ন আয়ের মানুষের মুখ। 

ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গরিব মারার লকডাউন কেন দেন। আগে মানুষের পেটে ভাত দিন, তারপর লকডাউন। গত বছর লকডাউনের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সেটা এখনও পুষিয়ে না উঠতেই আবারও লকডাউন। সামনে ঈদ, তাই ঈদ উপলক্ষে দোকান খুলে দিতে হবে। রোজার ঈদ সামনে, এই ভরা মৌসুমে লকডাউন দেয়া মানে আমাদের পেটে লাথি মারা।’

ধামরাই বাজারের ফুটপাতের ব্যবসায়ী ইরান বলেন, এর আগের লকডাউনে ব্যবসা করতে পারি নাই। বসে বসে মূলধন যতটুকু ছিল তা সবই শেষ করেছি। গত বছরে ফুটপাতে দোকান করেছি ৪৫ দিন। এছাড়া পুরো এক বছরে কোনও ইনকাম ছিল না। সব পুঁজি শেষ হওয়ায় এখনও ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারছি না। এখন বসে বসে ভাবছি এভাবে লকডাউন চললে কী করবো? এবার ব্যবসা না করতে পারলে ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যাবে।

কালামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মেহেদী বলেন, আগের বারের লকডাউনেই তো ঋণ করেছি অনেক টাকা। সেগুলো এখনও শোধ করতে পারিনি। আবার লকডাউন হলে আমার ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না। লকডাউনে বসে বসে সংসার খরচ চালানো সম্ভব নয়।

ইজিবাইক চালক আসলাম বলেন, ভালো ইনকামের আশায় ঢাকায় আসলাম, এখন তো বিপদে পড়লাম। লকডাউন হলে তো বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারবই না, উল্টো গ্যারেজ ভাড়া ও খাওয়ার বিল বাকি জমা পড়বে। মহাবিপদে পড়বো শুধু আমরাই। যাদের টাকা আছে তাদের তো এক সপ্তাহ নয়, এক মাস বসে থাকলেও সমস্যা নাই। 

এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক সমাজ ধামরাইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, লকডাউনের সময় নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষদের যদি বিত্তবানরা সহযোগিতা করেন তাহলে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি সকল সম্পদশালী ও বিত্তবানদের নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য লিখুন :