তাহিরপুরে এবারও হচ্ছেনা ওরস ও পণতীর্থ স্নানযাত্রা

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এবারও হচ্ছেনা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হযরত শাহ আরেফিন (রা:) এর বাৎসরিক ওরস ও সনাতন হিন্দু ধর্মালম্ভীদের পণতীর্থ স্মৃতিধামে স্নানযাত্রা মহোৎসব ও বারণী মেলা।

৭০০ বছরের অধিক সময় ধরে একই দিনে একই সময়ে বাৎসরিক ওরস ও সনাতন হিন্দু ধর্মালম্ভীদের পণতীর্থ স্মৃতিধামে স্নানযাত্রা মহোৎসব ও বারণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী জাদুকাটার পূর্ব তীরে ভাতর-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট লাগোয়া শাহিদাবাদ এলাকায় ও সনাতনধর্মালম্বী হিন্দুদের মহাপ্রভু লাউড় রাজ্যের নবগ্রাম রাজারগাও অদ্বৈত আচার্য্য ঠাকুরের আবির্ভাবস্থল অদ্বৈত আখড়া ধামে যাদুকাটা নদীর পণতীর্থ স্নানযাত্রা মহোৎসব ৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শুরু হয়ে ৯ এপ্রিল (শুক্রবার) পর্যন্ত শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এবার দ্বিতীয় দফা বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ওরস ও স্নানযাত্রা উৎসবসহ এর স্থলে অনুষ্ঠিত বারণী মেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেছেন।

বুধবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সর্ব সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হযরত শাহ আরেফিস (রা:) এর ওরস শরীফ ও পণতীর্থ গঙ্গাস্নানে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়। সেই প্রেক্ষিতে লাখ লাখ লোকের সমাগম হতে দিলে করোনার বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তাই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা গত ৩১ মার্চ এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওরস শরীফ ও পণতীর্থ গঙ্গাস্নান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও আগামী দুই সপ্তাহ জেলায় যেকোনো ধরেন সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবলু বলেন, আগামী কাল ৯ এপ্রিল (শুক্রবার) ওরস শরীফ ও পণতীর্থ গঙ্গাস্নান হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু গতবারের ন্যায় এবারও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কক্ষে এক সভায় সকলের সম্মতিক্রমেই প্রশাসন হযরত শাহ আরেফিস (রা:) এর ওরস শরীফ ও পণতীর্থ গঙ্গাস্নান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :