কৃষ্ণচূড়ার রঙে লাল সাতক্ষীরার গ্রাম বাংলা

আজ বৈশাখ মাসের চতুর্থ দিন। গ্রীষ্মের দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। এর মধ্যে যেন আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয় নানা রঙের ফুল। তার মধ্যে অনন্য কৃষ্ণচূড়া। এ সময় কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাল লাল ফুলে ছেয়ে যায়।

‘কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে- 

    তুমি আসবে বলে’ 

এ রকম অনেক কবিতা ও গান রয়েছে কৃষ্ণচূড়া নি‌য়ে। 

এই গ্রীষ্মের কড়া রোদে কৃষ্ণচূড়ার আবীর নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে বর্ণিল রূপে। দেখলেই মনে হয় প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙে আগুন জ্বলছে। যে দি‌কে চোখ যায় যেন সবুজের মাঝে লালের মূর্ছনা, প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ দেখে দু’চোখ জুড়িয়ে যায়।

এমনটিই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রাস্তা ঘাট ও গ্রামের আনাচে কানাচে যেখা‌নে কৃষ্ণচূড়া গাছ রয়েছে সে জায়গা লাল রঙের কৃষ্ণচূড়া ফুলে ছেয়ে গেছে। বৈশাখ এলেই যেন প্রকৃতির ভালোবাসার কথা জানান দিতে লাল লাল হয়ে হেঁসে উঠে কৃষ্ণচূড়া ফুল। চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও। ঋতুচক্রের আবর্তনে কৃষ্ণচূড়া তার মোহনীয় সৌন্দর্য নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে প্রকৃতির মাঝে। কৃষ্ণচূড়ার লাল আবীর গ্রীষ্মকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা।

শনিবার সকালে সরেজমিনে কালিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলা মোড়, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বর ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বৈশাখে কৃষ্ণচূড়া তার লাল আবীর নিয়ে পাকা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের ভালোবাসা নিয়ে কৃষ্ণচূড়া তার সমস্ত রঙ প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটির দিকে তাকালেই তার মুগ্ধতায় যে কারোরই দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, এই কৃষ্ণচূড়া ফুল লাল ও হলুদ রঙয়ের হয়ে থাকে। লাল রঙয়ের ফুলকে কৃষ্ণচূড়া ও হলুদ রঙয়ের ফুলকে রাধাচূড়া বলা হয়। তবে হলুদ রঙে রাধাচূড়া এখন তেমন দেখা যায় না বলেই চলে। 

আমাদের দেশে এপ্রিল মে মাসে এই ফুল ফোটে। বছরের অনান্য সময় এই ফুল বা গাছ সচারাচর চোখে না পড়লেও এপ্রিল মে মাসে যখনি গাছে নতুন পাতা বা ফুল ফোটা শুরু করে তখনি যেন পথচারির নজর কাড়ে মনমুগ্ধকর এই কৃষ্ণচূড়া। আবার ছোট ছোট বাচ্চা ছে‌লে মে‌য়েরা খেলার জন্য গাছ থে‌কে পে‌রে নেয় কৃষ্ণচূড়ার ফুল।

উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সূর্যের সবটুকু উত্তাপ কেড়ে নিয়ে ফুটেছে লাল টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল। বহু দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন গাছ গুলোতে আগুন জ্বলছে।

জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। ভিনদেশী এ ফুল আমাদের দেশে নতুন নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে যখন এ ফুল ফোটে তখন এর রূপে মুগ্ধ হয়ে পথচারীও চলার পথে ক্ষণিক থমকে তাকান।

কৃষ্ণচূড়ার উচ্চতা খুব বেশি হয় না। সর্বোচ্চ ১১ থে‌কে ১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। তবে এর শাখা পলব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো থাকে। বছরের অন্য সময় গাছ গুলো চোখে পড়ে না খুব একটা। এপ্রিল ও মে মাসে মানুষের দৃষ্টিতে আসে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এ ফুল।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। কুড়ি আসার কিছু দিনের মধ্যে পুরো গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে। কৃষ্ণচূড়া ফুল সাত আটটি পাপড়িযুক্ত গাঢ় লাল। ফুলের ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে।

মন্তব্য লিখুন :