পটুয়াখালীতে মন্থর করোনা, বৃদ্ধি পাচ্ছে ডায়রিয়া রোগী

স্থির রয়েছে পটুয়াখালী জেলার করোনা সংক্রমণ। কিন্তু করোনা আক্রান্ত সংখ্যা স্থির থাকলেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া। বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলার বাসিন্দারা করোনা সংক্রমিত কম হচ্ছে বলে ধারনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিগত কয়েকদিনে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে পটুয়াখালী জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ১১ জন, কলাপাড়ায় ৪ জন,  মির্জাগঞ্জে ১ জন, দুমকিতে ১ জন ও দশমিনায় ২ জন। ১৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা মন্থর রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে জেলায় করোনা আক্রান্ত সংখ্যা স্থির থাকলেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেড খালি না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে স্যালাইন নিতে বাধ্য হয়েছেন অসংখ্য ডায়রিয়া রোগী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী অনেক বেশি। বিগত কয়েক দিনের ভর্তি রোগীর তালিকায় দেখা গেছে প্রায় ১৭০ জনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে।

এছাড়াও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ২১০ জন, দুমকিতে ১৬০ জন, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে ২০০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এর মধ্যে দুমকি উপজেলায় ৪ জন ও মির্জাগঞ্জে ১১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী খোকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১ সপ্তাহ আগে আমার জ্বর হয়েছিল। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর এখন আবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। গত ২ দিন যাবত কিছু খেতে পারি পারিনা। বমি আর পায়খানা থামছেই না। আজকে বমি, পায়খানার সাথে কাশিও হচ্ছে। তাই ডাক্তার দেখিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বেড পাইনি, স্যালাইন মেঝেতে শুয়ে নিচ্ছি”।

পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের সেবিকারা জানান, চিকিৎসাধীন অনেকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে। তারা করোনার লক্ষণ গোপন করে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেয়ায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। রোগী ভর্তি হলে স্যালাইনসহ যাবতীয় ঔষধ সরকারিভাবে দেয়া হচ্ছে।

ডায়রিয়ার প্রকোপ সম্পর্কে জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড এর চিকিৎসক ডাঃ মিঠুন চন্দ্র বলেন, গরমের এই সময়ে বিভিন্ন খাবার থেকে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করায় হঠাৎ করে পটুয়াখালীসহ সারাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণজাতীয় পদার্থ বের হয়ে যায়। শরীরে পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। সময়মতো পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি পূরণ না করলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। তবে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ ও স্যালাইনের সরবরাহ আছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে অত্যধিক হারে। শিশু এবং বয়স্কদের এই রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেশি। তারা আরও জানিয়েছেন, যেহেতু এই রোগটি করোনাভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত, সেজন্য মহামারির সময় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য লিখুন :