সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: নীরব ভূমিকায় পুলিশ

বগুড়া সান্তাহারে অনুমোদনহীন ব্যবসায়িক সমিতির আড়ালে চলছে উচ্চ হারের সুদের রমরমা ব্যবসা। এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দাদন ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন ও তার সহযোগি জালাল উদ্দিন সাংবাদিক নেহাল আহমেদ প্রান্তকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদান করে।

এই ঘটনায় প্রান্ত বাদি হয়ে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আদমদীঘি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রায় ২মাস পার হলেও আজ পর্যন্ত পুলিশ কোন ভ’মিকা গ্রহণ করেনি। এদিকে নাজমুল বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকি প্রদান অব্যাহত রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবার। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের নামা পোঁওতা গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে নাজমুল হোসেন (২১) সান্তাহার পৌরসভা থেকে অর্থের বিনিময়ে তামিম সঞ্চয় ও ঋণদান প্রতিষ্ঠান নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে।

এরপর পৌরসভা থেকে দেওয়া অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে আকর্ষনীয় বই ছাপিয়ে ট্রেড সনদের নাম ব্যবহার না করে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সমিতি নাম দিয়ে শতকরা ৩০টাকা হারে সুদ আদায় করে আসছে। সরকার অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠানকে ঋণের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডিজিটে সুদের হার নির্ধারন করে দিয়েছে। এই বিষয়ে তথ্যাদি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। এরই জের ধরে গত ২৫মার্চ দুপুরে নাজমুল ও তার সহযোগি জালাল উদ্দিন সাংবাদিক প্রান্তের নামা পোঁওতা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ প্রাণ নাশের বিভিন্ন হুমকি-ধামকী দিয়ে আসে। আর সে সময় নাজমুল সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে করে বলেন আমি আমার কারবার চালিয়ে যাবো। দুই টাকার সাংবাদিকরা আমার কি করতে পারে তা দেখবো। অভিযোগ দায়েরের প্রায় ২মাস অতিবাহিত হলেও ফৌজদারী বিষয়ে পুলিশ এখনোও কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নাজমুল এখনো তার সুদের রমরমা কারবার বহাল তবিয়তে চালিয়ে আসছে। নাজমুল ওই সাংবাদিককে এখনো বিভিন্ন জায়গা দেখা হলে তাকে বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকী প্রদান অব্যাহত রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তারা।

সাংবাদিক নেহাল আহমেদ প্রান্ত বলেন ফৌজদারী বিষয়ে অভিযোগে দায়ের করার প্রায় ২মাস পার হলেও পুলিশ প্রশাসন এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নাজমুল তার অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং হুমকি-ধামকী প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই বিষয়ে থানার ওসির কাছে গেলে ওসি বলেন এটি উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব আবার উপজেলা প্রশাসন বলে ফৌজদারী বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অপরদিকে নাজমুল তার কর্মকান্ড বহাল তবিয়তে চালিয়ে আসছে। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের ভ’মিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গনমাধ্যমকর্মীরা যদি প্রশাসনের কাছে গিয়ে সুষ্ঠু বিচার না পায় তাহলে সাধারন মানুষরা কোথায় যাবেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন যেহেতু নাজমুল সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেয়নি তাই তার এই ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করার কোন অধিকার নেই। নাজমুল যেহেতু সমবায়ের অনুমতির বাহিরে দাদন ব্যবসা করে আসছেন সেহেতু প্রশাসনই তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তবুও আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করেছি। আগামী সপ্তাহের যে কোন দিন তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দিবো। পরবর্তি পদক্ষেপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই গ্রহণ করবেন।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে থানায় ঢেকেছিলাম। সে ১সপ্তাহ সময় চেয়েছিলো। এরপর ব্যস্ততার কারণে ওই বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে নাজমুলের এই অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন যে কোন সময় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তবে দুই-একজন ভুক্তভ’গি যদি আলাদা করে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে আমি নাজমুলের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। তবুও আমি বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করে দেখবো।

আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন বলেন হুমকি-ধামকী প্রদান হচ্ছে ফৌজদারী বিষয়। এই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরই তো পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। পুলিশ প্রশাসন কেন এই বিষয়ে নীরব তা আমার জানা নেই। আমি অভিযোগ পাওয়ার পর সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে তা আমি গ্রহণ করব।

মন্তব্য লিখুন :