ফরিদপুরে মেয়র ও কমিশনারদের প্রতি ক্ষুব্ধ জনগণ

সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র মুজিব সড়ক সহ কয়েকটি সংযোগ সড়ক সাধারণ জনগণের চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করায় চরম জনদুর্ভোগে পড়েছে ফরিদপুরের সাধারণ জনগণ। এর জন্য ফরিদপুরের মেয়রসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের কমিশনারদের দায়ী করেছেন পৌরসভাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র মুজিব সড়কটি জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত ওয়ানওয়ে করে দেয়া হয় অর্থাৎ জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে স্বর্ণকার পট্টি হয়ে সুপার মার্কেট পর্যন্ত আসার রাস্তা বন্ধ। ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসা সাধারণ যানবাহন, পূর্ব খাবাসপুর, ঝিলটুলী, চর কমলাপুরে সহজে যেতে পারছে না এবং ঝিলটুলী, পূর্ব খাবাসপুর ও চরকমলাপুর থেকে সুপার মার্কেটের সামনে থেকে আলীপুর সহ কয়েকটি এলাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারছে না।

বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে বেশি সময় অতিবাহিত করে যেতে হয়। অপরদিকে রাজেন্দ্র মেডিকেল সংযোগ সড়কটি ও আলীপুরের উদয়ন ক্লাবের সংযোগ সড়কটি ও যানবাহন ব্যবহার করতে পারছে না বিধায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে শহরবাসী । 

এই বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির জানান, বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে চলাচলে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছে আমার ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ, প্রতিনিয়ত আমার ওয়ার্ডবাসীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে  হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সড়কগুলি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বন্ধ করেন নাই, বন্ধ করেছে পুলিশ প্রশাসন। আমরা এই বিষয়ে পুলিশ সুপারের সাথে খুব দ্রুত জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে আলোচনায় বসবো এবং আশা করি দুর্ভোগের সমাধান হবে।  

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চৌধুরী জানান, রাস্তায় চলাচলের সময় আমি নিজেও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি, আমার ও অনেকটা রাস্তা ঘুরে আসতে হয় বাজারে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তিরা জানান, অদৃশ্য ক্ষমতাবলে জনতা ব্যাংকের মোড় থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত মুজিব সড়কটিতে ওয়ান ওয়ে করা হয়েছে কয়েকজন ক্লিনিক ব্যবসায়ীর স্বার্থে। 

তারা আরও জানান, ঐ ক্লিনিক ব্যবসায়ী কয়েকজন সাংবাদিক নেতাকে ব্যবহার করে এবং তাদের সমন্বয়ে একটি সংগঠনকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এতে ঐ ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা তাদের ক্লিনিকে বিভিন্ন ধরনের রোগীসহ এ্যাম্বুলেন্স আসার জন্য রাস্তাটি ওয়ান ওয়ে করেছে।

মন্তব্য লিখুন :