আমার ছেলে তো কোন দোষ করেনি!

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা তাকবীর হত্যা মামলা প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও হত্যা মামলার মূল আসামীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায়, সন্তান হত্যার ক্ষোভে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে।

রবিবার (৩০ মে) বেলা ১১টায় শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় খতাকবীর হত্যার মূল আসামীসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

মানববন্ধনে সন্তান হারা পিতা জহুরুল ইসলাম মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি বলব? এই সাতমাথায় অনেক বক্তব্য দিয়েছি, সমাবেশ করেছি। আজও আমাকে দাঁড়াতে হয়েছে কেন?’ 

তিনি চিৎকার বলেন, ‘বগুড়াসহ দেশবাসী একটু দাঁড়ান, একটু দেখেন, একজন সন্তান হারা পিতার একটু আর্তনাদ শোনেন। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাইতে এসেছি।

গত ১১ মার্চ এই সাতমাথায় আমার ছেলেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুপিয়ে জখম করেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আমি তো অনেকের কাছে বিচার চেয়েছি এই সাতমাথায়। আজ আপনারা আমার ছেলের হত্যার বিচার করে দিন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

মানববন্ধনে সন্তানহারা মাতা আফরোজা বেগম আর্তনাদ বলেন, ‘আমার ছেলে তো কোন দোষ করেনি, সে শুধু প্রকৃত রাজনীতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু খুনি রউফ নেশা, চাঁদাবাজি সব ধরনের অপরাধ করত। আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতাদের প্রশ্রয় না পেয়ে রউফ এত বেপরোয়া হয়েছে। জলজ্যান্ত একটা ছেলেকে খুন করল। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না কেন?

তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, আমার ছেলের হত্যার বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে করা হোক।

মানববন্ধন সমাবেশে অংশ নেয় সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ।

তিনি বলেন, ১১ মার্চ সাতমাথায় জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাঃ সম্পাদক তাকবীর ইসলামকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এর কয়েকদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকবীরের মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর আগে তাকবীর হত্যাকারীদের নাম স্পষ্ট করে বলে যায়। তারপরও প্রশাসন এজাহারভুক্ত বা তাকবীরের বলে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, গত দুই মাসে বগুড়ায় আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি দেখা দিয়েছে। অনেকগুলো হামলা, হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু তার কয়টির ব্যবস্থা প্রশাসন নিতে পেরেছে! বগুড়ার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি এসবের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আহবান করেন। আর তাকবীর হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন।

তাকবীর হত্যাকাণ্ডে তার চাচাতো বোন নাবিলা আওয়ামীলীগের কাছেই বিচার চায়। তার দাবি, তাকবীর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। রাজনীতি করতে গিয়ে একই সংগঠনের আরেক নেতা প্রতি হিংসাপরায়ণ হয়ে তাকবীরকে হত্যা করে। আইন-আদালত ও প্রশাসনের বিচার পরে। আগে আমরা দেখতে চাই আওয়ামীলীগ কি বিচার করে! দলের একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া কর্মীর বিচার কি হয় এটা সবার জানতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, সন্তানহারা পিতা-মাতার রোদে খরতাপে কেন রাস্তায় আসে তা আমরা বুঝি। যেখানে খুনিরা প্রায় আড়াইমাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও গ্রেফতার হয় না। সেখানে হতাশা দেখা দিবে। বিচার প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য সুজনের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি-তাকবীর হত্যার বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে করা হোক।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মির্জা সেলিম, আব্দুল জলিল, ছাত্রলীগ কর্মী ও তাকবীরের ফুফাতো ভাই শাফি, তৌফিক প্রমুখ। এ ছাড়াও মানববন্ধনে আরও ৩০ জনের মত এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন :