মহাদেবপুরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের মামলা

নওগাঁর মহাদেবপুরে শয্যাশায়ী বৃদ্ধা মাকে তৈলাক্ত খাবার দিতে নিষেধ করায় ৩ ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে বোনের বিরুদ্ধে।

মামলার বাদী রেবেকা খাতুনের বাড়ী উপজেলার বাখরাবাদ গ্রামে এবং বিবাদী ভাইদের বাড়ী একই উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। তিন ভাইসহ তাদের পরিবারকে বাড়ী ছাড়া করেছে তারই আপন বোন।

মামলার আসামীরা হলেন, মহাদেবপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের রেজাউল হক নান্নুর ছেলে সাব্বির আহম্মেদ সাগর, মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মুন্নু, রেজাউল হক নান্নু, মঞ্জুরুল হক মন্জু, মুন্নুর ছেলে মেহেদী, মুন্নুর স্ত্রী মাহমুদা খাতুন, রেজাউল হকের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী-বিবাদীর মা বৃদ্ধা রাজিয়া সুলতানা(৮৫) শয্যাশায়ী। মাকে ছেলেরা ঠিকমত দেখাশুনা করেন না। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানার পর মামলার বাদী রেবেকা খাতুন তার বড় ছেলে হারুনুর রশীদ পিন্টু ও ছোট ছেলে রুহুল আমিনকে নিয়ে ঈদ-উল-ফিতরের দিন কিছু খাবার নিয়ে শ্যামপুর গ্রামে মাকে দেখার জন্য যান। মার সাথে দেখা করতে এমনকি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খাবারও খেতে দেননি তার ভাই ও ভাতিজারা। বিষয়টি রেবেকা খাতুন স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানালে পরদিন সুরাহা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরদিন গণ্যমান্যরা কোন ব্যবস্থা করে না দিলে রেবেকা খাতুন তার ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে আবারও দেখা করতে যান।

এ সময় তার ভাইয়েরা রেবেকা খাতুনকে মায়ের সাথে দেখা করতে দেননি। এক পর্যায়ে তার বড়ভাই রেজাউল হক নান্নু, মেঝ ভাই মুন্নু ও ছোট ভাই মঞ্জুরুল হক মঞ্জু এবং রেজাউল হকের ছেলে সাব্বির আহমেদ সাগর তারে বোন রেবেকা ও তার ছেলেকে মারপিট করে  জখম করে। এ ঘটনায় রেবেকা বাদী হয়ে তার তিন ভাই ও ভাতিজাসহ সাত জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

 স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী-বিবাদীর মা বৃদ্ধা রাজিয়া সুলতানা প্রায় ১ বছর থেকে দুই পা ভেঙে শয্যাশায়ী। বিছানায় গোসল, খাওয়া ও প্রকৃতির কাজ করে থাকেন। তিন ছেলে পালা করে তাদের মাকে দেখাশুনা করে আসছেন। ডাক্তার তাদের মাকে তৈলাক্ত খাবার খাওয়াতে নিষেধ করেছেন। তার মেয়ের নিয়ে আসা তৈলাক্ত খাবার মাকে না খাওয়ানোর জন্য ভাইয়েরা নিষেধ করে। কিন্তু তারপরও মেয়ে রেবেকা ও তার ছেলে খাবারের জন্য জোর করে। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

শয্যাশায়ী বৃদ্ধা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার তিন ছেলে তারাই আমাকে সেবা যত্ন দেখেশুনা করে। ছেলেরা না থাকলে হয়ত এতদিন মারা যেতাম। ছেলেদের বিরুদ্ধে মেয়েরা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বৃদ্ধার বড় ছেলে রেজাউল হক নান্নু বলেন, ডাক্তার মাকে তৈলাক্ত খাবার খাওয়াতে নিষেধ করেছে। তৈলাক্ত খাবারে মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বোনেরা মাকে দেখে ২/১দিন থাকবে চলে যাবে। কিন্তু তারা তো আর দেখাশুনা করে না। এজন্য তাদের নিয়ে আসা তৈলাক্ত খাবার খাওয়াতে আমরা নিষেধ করায় উল্টো আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আবার আদালতে গিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে এ কারণে আমাদের তিন পরিবারের সবাই এখন বাড়ি ছাড়া।

স্থানীয় প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন, আসমা বেগম ও বয়োজ্যেষ্ঠ তহমিনাসহ আরও অনেকে বলেন, ছেলেরা পালা করে তাদের মাকে দেখাশুনা করে থাকে। তবে মেয়েদের কোন ধরনের সেবা করতে দেখা যায়নি। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই মেয়েরা খাবার নিয়ে আসে। খাবার দিতে নিষেধ করায় বোনেরা ঝগড়া শুরু করে।

এ ব্যাপারে বাদী রেবেকা খাতুন ও তার ছোট ছেলে রুহুল উভয়ের নাম্বারে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন। পরে একাধিক বার চেষ্টা করেও কোন সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :