উজিরপুরে জোর পূর্বক মাছ চাষ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের কাজিসা গ্রামের সিকদার বাড়ি মৎস্য প্রকল্পে জোর পূর্বক মাছ চাষের পায়তারা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। 

এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এ নিয়ে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে জমির মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার আরাফাত আলী মল্লিকের ছেলে কামাল মল্লিক (৪০), আতাহার মল্লিকের ছেলে রুহুল আমিন মল্লিক (৩৫), মজিদ মল্লিকের ছেলে মোক্তার মল্লিক (৪২), শরৎ চন্দ্র সমদ্দারের ছেলে বিমল চন্দ্র সমদ্দার (৩৪)সহ কতিপয় প্রভাবশালী জোর পূর্বক সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত তিন বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছে। এ কারণে মৎস্য প্রকল্পের ভিতরে অতি মাত্রায় ইউরিয়া, দস্তা, টিএসপি ও চুন ব্যবহার করায় ইরি বোরো মৌসুমে ধান চাষ করলে ফলন কম হয়।

ফসলী জমিতে মাছ চাষ করায় সরকারি রাস্তা, কবরস্থান ও বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। মৎস্য প্রকল্পের আশপাশের পরিবার গুলোর চুলায় পানি ওঠে, কাঁচাপাকা টয়লেট পানিতে তলিয়ে যায়।

কৃষক ও জমির মালিক মোঃ মিজানুর রহমান (৪৮), চান মোহন (৬২), রাজেন মহুরী(৬৮), সফিকুল ইসলাম চান (৫২),ওমর আলী সিকদার (৪৮)সহ শতাধিক ভুক্তভোগীরা সংবাদ কর্মীদের জানান, তিন বছর আগে ধান চাষ করে একর প্রতি ৯০ থেকে ৯৫ মন ধান উৎপন্ন হত। বর্তমানে একর প্রতি ৩০-৩৫ মন ধান উৎপন্ন হয়। তাই মাছ চাষ করলে আমরা কৃষক-মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। মাছ চাষ বন্ধের দাবীতে আমরা শতাধিক কৃষক-মালিক জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

অভিযুক্ত কামাল মল্লিক মুঠোফোনে জানান, সকল জমির মালিক একত্রিত হয়ে অনুমতি দিলে মৎস্য চাষ করব, নতুবা জোর পূর্বক মাছ চাষ করব না।

মন্তব্য লিখুন :