জোড়া লেগেছে দক্ষিণাঞ্চল

পটুয়াখালীর লেবুখালী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। এ মাসের শুরুতে চার লেনের এ সেতুটির মূল অংশের ক্লোজিং সেগমেন্ট ঢালাই সম্পন্ন হবার মধ্যে দিয়ে পায়রা নদীর দু-পাড়ের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। চলতি মাসেই মূল সেতু ও সংযোগ সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান চাইনিজ কোম্পানি সেতুটি নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে সেতু পারাপারের টোল নির্ধারণ করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করেছে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

৪ লেনের এ সেতুটির দু-প্রান্তে ১ হাজার ২৬৮ মিটার সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজা নির্মিত হয়েছে। পায়রা নদীর মূল অংশের বক্স গার্ডার ৪টি স্প্যানের ওপর নির্মিত হয়েছে। মূল অংশ ২শ মিটার করে দুটি স্প্যান ১৮.৩০ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালীর পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সারা দেশের সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপিত হবে। সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটায় পৌছতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘণ্টা। 

চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করবে চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ এর এপ্রিলে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও আম্পান ও করোনার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা দুই বছর পিছিয়েছে। 

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী আলমগীর বলেন, সেতুটির কাজ ৯৭ ভাগ শেষ হয়েছে। এটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। 

পটুয়াখালী পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৩৯ কিলোমিটারে পায়রা নদীর উপর লেবুখালী সেতু নির্মাণের মধ্যে দিয়ে উপকূলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। সেতুটি চালু হলে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা জেলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূত পূর্ব উন্নয়ন।

মন্তব্য লিখুন :