ফরিদপুরে পুলিশকে ঘুষি মেরে হাতকড়াসহ পালাল যুবক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার দুই পুলিশকে ঘুষি মেরে হাতকড়াসহ পালিয়েছেন মোঃ বরকত (২৩) নামের এক যুবক।

শুক্রবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের বেড়িরহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন আলফাডাঙ্গা থানার উপ পরিদর্শক মঞ্জুর হোসেন ও মোঃ জামালউদ্দিন।

বরকত হোসেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও বেড়ির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর হোসেন ওরফে মঞ্জু মাস্টারের ছেলে।

তার পরিবারের দাবি,বরকত হোসেন মানসিক রোগী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ সদস্য মঞ্জুর হোসেন এসে বরকতের হাতে হ্যান্ডকাফ পরান। তখন বরকত অন্য হাত দিয়ে মঞ্জুর হোসেনের মাথায় ঘুষি মারেন। ওই সময় অন্য পুলিশ সদস্য জামালউদ্দিন বরকতের আরেক হাত ধরে ফেলেন। বরকত তখন হ্যান্ডকাফসহ পুলিশ জামালউদ্দিনের মাথায় ঘুষি মেরে, আঘাত করে পালিয়ে যান।

পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান জানান, আমি যদিও এলাকায় নাই,আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তারপরও যতটুকু জানি, বরকত আমার দলের কোন লোক নয়। বিরোধী গ্রুপের লোক। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া ওই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে বিষয়টি বুঝতে পারলাম না। দুই/তিন জন দারোগার সামনে থেকে ২৩ বছরের বয়সী একটি ছেলে হ্যান্ডকাপসহ পালায় কিভাবে? 

এ প্রসঙ্গে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেড়িরহাট গ্রামে একটি সালিশে দুই পক্ষের বাদানুবাদ হয়। এ খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বরকত হোসেন নামে ওই ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে। তাকে হ্যান্ডকাফও পরানো হয়। বরকতের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফসহ তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলাও হয়নি। তবে তার বাবা মঞ্জুর হোসেন মাস্টারকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন :