নবীগঞ্জে তাণ্ডব: দু’দিনের রিমান্ড শেষে আ.লীগ নেতার কাছ থেকে যা তথ্য পেল পুলিশ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে ১৩টি বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের মামলার দ্বিতীয় আসামী উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়নের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলকে দুই দিনের রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১৩ জুন) দুপুরে গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা কাওছার আলম এ বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে (১০ জুন) বৃহস্পতিবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুকুলকে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে নবীগঞ্জ থানায় আনা হয়। ওইদিন সন্ধ্যার পর (১১ জুন) টানা কয়েক ঘন্টা নবীগঞ্জ থানায় তাকে নোয়াগাঁও গ্রামের ১৩টি বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে ও মূল রহস্য উদঘাটনে নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খায়ের, নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ডালিম আহমেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওছার আলম মামলার আসামী মুকুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মুকুল। পরে রিমান্ড শেষে (১২ জুন) ইমদাদুর রহমান মুকুলকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা কাওছার আলম বলেন, নোয়াগাঁও গ্রামে ১৩টি বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী মুকুলকে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের বিষয়ে এখন প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।

সম্প্রতি গত ৩০ মেসাতাইহাল ছয়-মৌজা কর্তৃক পার্শ্ববর্তী পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ সময় অগ্নিসংযোগে ১৩টি ঘর-বাড়ি আগুণে ভীস্মভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। এ ঘটনার পর (১ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে জামাল হোসাইন বাদী হয়ে সাতাইহাল গ্রামের ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরর পর দ্বিতীয় আসামী আ.লীগ নেতা মুকুল আত্মগোপনে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা পাননি। পরদিন (২ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বাহুবল-হবিগঞ্জ সড়কের মশাজান ব্রিজ এলাকায় থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ মামলায় মুকুলসহ আরো ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার (৭ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক কাওছার আলম অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা তদন্তের স্বার্থে মামলার দ্বিতীয় আসামী ইমদাদুর রহমান মুকুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত বুধবার (৯ জুন) দীর্ঘ শুনানি শেষে পত্র-পত্রিকা, ঘটনার ছবি-ভিডিও পর্যালোচনা করে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পবন চন্দ্র বর্মণের আদালত আসামী মুকুলের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মন্তব্য লিখুন :