অন্যের হয়ে সাজা খেটে অবশেষে মুক্তি পেলেন মিনু

উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিন বছর পর মুক্তি পেলেন অন্যের হয়ে সাজা ভোগ করা মিনু আক্তার।

বুধবার (১৬ জুন) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

৭ জুন হাই কোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মিনু আক্তারকে মুক্তির আদেশ দেয়। সে আদেশ চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালতে পৌঁছালে নির্দেশনা পাঠানো হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মিনু আক্তারের আইনজীবীকে পরবর্তীতে মামলার প্রয়োজনে মিনুকে হাজির করার শর্তে একটি বন্ড জমা দিতে বলা হয়। তিনি সেই বন্ড জমা দিলে মিনু আক্তারের মুক্তির নির্দেশনা কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রায় তিন বছর কারাগারে থাকার পর চলতি বছরের ১৮ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষকে মিনু আক্তার জানান, তিনি কোনো মামলার আসামি নন। তিন সন্তানের ভরণ-পোষণের আশ্বাস পেয়ে বিধবা ওই নারী ২০১৮ সালের জুন থেকে কারাভোগ করছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয় চট্টগ্রামের আদালত।

কারাগারের রেজিস্ট্রারকে তলব করে মিনুর দাবি যাচাইয়ের পর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুঁঞা ২৩ মার্চ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠান।

মিনু আক্তার আরও জানান, সন্তানদের খাওয়া-দাওয়া এবং আর্থিক কিছু সহায়তা দেবে বলে মর্জিনা আক্তার নামে এক নারীর কাছ থেকে বদলি জেল খাটার প্রস্তাবে তিনি রাজি হন।

২০০৬ সালে নগরীর রহমতগঞ্জে এক নারীকে হত্যায় ২০১৭ সালে ছালেহ আহমেদের স্ত্রী কুলসুমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। ২০০৭ সালে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন; পরে জামিনে মুক্তি পান।

এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমা আক্তার ‘সেজে’ মিনু আক্তার ‘স্বেচ্ছায়’ সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল বছর পাঁচেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মিনু আক্তার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আসেন।

তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। গত তিন বছর ধরে দুই ছেলে ইয়াছিন (১০) ও গোলাপ (৭) সীতাকুণ্ডের একটি এতিমখানায় থাকে এবং মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন পালন করছেন।

মিনু আক্তার কারাগারে থাকা অবস্থায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন কুলসুমা আক্তার। ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে।

চট্টগ্রাম আদালতের পাঠানো নথি পেয়ে গত ৭ জুন মিনু আক্তারকে মুক্তির আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি কুলসুমার পরিবর্তে তার ‘আত্মসমর্পণ’ এবং উচ্চ আদালতে আপিলের প্রক্রিয়ায় প্রতারণা হয়েছে কিনা, তারও ব্যাখ্যা চায় হাই কোর্ট।

মন্তব্য লিখুন :