কুড়িগ্রামে করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধি নিষেধ জারি

কুড়িগ্রামে করোনা সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়েই চলেছে। সেই সাথে ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে লকডাউন চলাকালীন কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

জেলা শহরের হাটবাজার, বিভিন্ন দোকানপাট ও অলিগলিতে অধিকাংশ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। এমনকি এখন অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতেও হাত ধোয়ার যে ব্যবস্থা ছিল তা আর চোখে পড়ছেনা। জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বাড়লেও জনসাধারণ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব। প্রতিদিন জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা পজিটিভ রোগী।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকির রোধে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২১জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে তা মঙ্গলবার বিকেল থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে।

এদিকে এ নির্দেশ জারি করার পর গুরুত্বপূর্ণ এসব এলাকাগুলোতে যান চলাচলে বিশেষ বিধি নিষেধ আরোপ করে মূল সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। তবে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যারিকেড উপেক্ষা করে চলাচল করছে।

জেলা প্রশাসনের এই বিধি নিষেধ আপাতত পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের ৩১টি পাড়ায় কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তীতে জেলা করোনা কমিটি লক ডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা সাংবাদিকদের জানান।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর করতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ২, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে বিশেষ বিধি নিষেধ আরোপের নির্দেশ দেন। 

বিধি নিষেধ চলাকালীন সময়ে শহরের দাদামোড়, পৌরবাজার, হাসপাতালপাড়া ও জিয়াবাজারের মূল প্রবেশ পথ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং কেনাকাটায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এছাড়াও হাটবাজার গুলোতে খাদ্য দ্রব্য পরিবহণে ব্যবহৃত যানবাহন রাত ১০টার পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সুবিধা জনক সময়ে আনলোড করতে পারবে।

এসময় জরুরী যানবাহন ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও সরকারি কাজে নিযুক্ত গাড়ি, ঔষধের দোকান এ আদেশের আওতা বহির্ভূত থাকবে। সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সকল ধরণের গণজমায়েত বন্ধ থাকবে। কুড়িগ্রাম পৌরসভায় সকল ধরণের যানবাহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ১০ দিনে (৫ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত) জেলায় ২৭২টি নমুনা পরীক্ষায় ১১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১০ দিনের আক্রান্তের গড় হার ৪২ শতাংশের উপরে।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মঙ্গলবার ১৫ জুন পর্যন্ত সেখানে ভর্তি রয়েছে ১১ জন।

অপর দিকে বুধবার সকালে জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকার নাখারগন্জ গ্রামের আলীম উদ্দিন নামের এক করোনা রোগী রংপুর সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। 

জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৭ জন। এখন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮ হাজার ৬০১ জনের।

মন্তব্য লিখুন :