আর্থিক অস্বচ্ছলতায় তানিমের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায়

হাসান মাহমুদ তানিম নামটি তিন শব্দের হলেও বিশাল তার স্বপ্ন। ১৪ বছর বয়সের এ শিশুটি একদিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন মনে লালন করছে।

প্রতিদিন নেটে বল করে নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতেও ভুল করছে না। তবে ক্রিকেট বল নয়, টেপ লাগানো টেনিস বলই তার ভরসা। স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভাষ্যমতে, ডানহাতি তানিম লেগ সুইংয়ে গুগলিও দিতে পারে। আবার বলে স্পিড দিয়েও উইকেট শিকারে রয়েছে দক্ষতা।

আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার রশিদ খানকে আইডল মানে তানিম। তাঁর মতোই তানিম বল হাতে উইকেট আবার ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখাতে পারে। সবশেষ স্থানীয় একটি শর্ট পিচ টুর্নামেন্টে বোলিং নৈপুণ্যে ৩ উইকেট ও ব্যাটিং দীপ্ততায় ৬২ রান করে তানিম। আবার এ তানিমই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছে।

তানিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ বাজার এলাকার মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে। সে চরলরেঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে যখন শিশু শ্রেণিতে পড়ে তখন তার বাবা মারা যায়। এরপর থেকে তার বোন তানজিদা আক্তার লক্ষ্মীপুরের একটি ল্যাবে চাকরি ও তার ভাই মেহেদি হাসান তানভীর একটি কারখানায় চাকরি করে সংসার চালায়। অভাবের সংসারে তানিমের পড়ালেখার খরচের পর খেলাধুলায় ব্যয় করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এতে অনিশ্চয়তায় রয়েছে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভাষ্যমতে, ছোট হয়েও তানিম অসাধারণ বোলিং করে। রশিদ খানের মতো তার বলে সুইংয়ের পাশাপাশি গুগলি ব্যাটসম্যানদের মাথা গুলিয়ে দেয়। এছাড়াও বলে সে পর্যাপ্ত স্পিড রয়েছে। সুইং আর স্পিড একই সঙ্গে দিলেই ব্যাটসম্যানরা হার মানতে বাধ্য হয়। তবে তার পরিবার অসচ্ছল। এজন্য তার খেলাধুলার ক্যারিয়ার শুরুতেই শেষ হতে বসেছে।

তানিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ। তার বড় ভাই তানভীর ও চাচাতো ভাই ইমাম হোসেন মিশুর খেলা দেখেই সে ক্রিকেট দুনিয়ায় পা রেখেছেন। টিভিতে রশিদ খানের খেলা দেখে সে নিজেকে তেমনভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনবরত। ক্রিকেট খেলা তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও কোন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হলে স্কুল কিংবা খাওয়া বন্ধ করে হলেও সে ছুটে যাবে খেলা দেখতে। বেশিরভাগ সময়ই তার গায়ে বাংলাদেশের জার্সি দেখা যায়। তার কোন অবসর নেই, যেখানে যেভাবেই পারেন খেলাধুলায় নিজেকে সে ব্যস্ত রাখে।

তানিম বলেন, ক্রিকেট আমার ভালো লাগে। টাকা জমিয়ে আমার নানার বাড়িতে গাছপালার সঙ্গে একটি নেট লাগিয়ে প্রতিদিনই বোলিং প্র্যাকটিস করে আসছি। এলাকার যেখানেই খেলা হবে, সেখানেই আমি ছুটে যায়। খেলা দেখাটাও আমার জন্য অনেক বড় প্রশিক্ষণ। আমি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে চাই। এ লক্ষ্যেই আমার অবসর সময়গুলো আমি খেলাধুলা নিয়ে পড়ে থাকি। যেকোনো পড়া একবার পড়লেই আমার মুখস্থ হয়ে যায়। এজন্য খেলাধুলা আমার পড়ালেখাকে দুর্বল করতে পারেনি।

কমলনগর ওয়ারিয়র্স ক্লাবের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফারুক জুয়েল ঢাকা নিউজ৭১ কে বলেন, বোলিংয়ে তানিমের দারুণ ট্যালেন্ট রয়েছে। বোলিংয়ে সে একসঙ্গে সুইং, স্পিড ও গুগলি দিতে পারে। এতে তার চেয়েও বড় খেলোয়াড়দেরকেও খুব সহজে পরাস্ত হতে হয়। প্রতিটি ম্যাচেই ২-৩ টি করে গড়ে উইকেট শিকার করে তানিম। সুযোগ পেলে একদিন সে রশিদ খানের মতো খেলে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করার সামর্থ্য রাখে।

কাজীপাড়া টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি কাজী বাকের হোসেন নিশাদ ঢাকা নিউজ৭১ কে বলেন, তানিমের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এতে তার খেলাধুলা বন্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কোন ভালো সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ক্রিকেট দুনিয়ায় তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমাদের ক্লাব থেকে যতবারই খেলেছে, ততবারই সে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। তার বোলিং ও ব্যাটিং যোগ্যতা দুর্দান্ত। তার ভাই তানভীরও ভালো খেলতো। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের হাল ধরতে গিয়ে তানভীরের পড়ালেখা ও খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। তানিমের পাশে কেউ দাঁড়ালে সে ভালো পর্যায়ে যেতে পারবে।

মন্তব্য লিখুন :