ধামইরহাটে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে যুবকের প্রাণনাশের অভিযোগ

নওগাঁর ধামইরহাটে পৈতৃক সম্পত্বি দেখতে এসে আপন চাচাত ভাইয়ের হাতে গুরুতর আহত হয়েছেন মোঃ গোলাম কিবরিয়া মানিক (৩৫)। আহত ওই যুবক পার্শ্ববর্তী উপজেলা নজিপুর বাজারের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অবিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত অছির উদ্দিন মন্ডল এর ছেলে মোঃ হালিম ও মৃত খাইরুল ইসলামের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে দীর্ঘ দশ বছর আগে বাদী মোঃ গেলাম কিবরিয়ার পৈতৃক সম্পত্বি চাষাবাদের জন্য বর্গা দেন। বর্গাদাররা ওইসব জমি চাষাবাদ করে উৎপাদিত ফসল প্রতিবছর জমির মালিক বাদি গোলাম কিবরিয়ার কাছে পৌছে দিতেন।

উল্লেখিত লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ১৬ জুন আনুমানিক সকাল ৮ টার সময় ওই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ১ নম্বর বিবাদী মোঃ লুৎফর রহমান (৬৫) পিতা মৃত আব্দুল করিম ও তার ছেলে ২ নম্বর বিবাদী মোঃ সোহরাব হোসেন গামা (৩০), ৩ নম্বর মোঃ আরাফাত হোসেন (২৪) ও ৪ নম্বর বিবাদী মোঃ সাদিক হোসেন (২২) বাদীর বর্গাদারদের কাজে বাধা প্রদান করেন। এবং হুমকি দিয়ে তারা বলেন, যদি এই জমিতে কেউ আসে তার প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

বর্গাদারদের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ১৭ জুন ২০২১ অভিযোগকারী মোঃগেলাম কিবরিয়া মানিক তার বড় ভাইকে সাথে নিয়ে চন্ডিপুর এলাকায় নিজ জমিতে গেলে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁশের লাঠি, লোহার রড, কোদাল, ধারালো চাকু, ফার্সাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গালি গালাজের এক পর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদীর হুকুমে ২ নম্বর বিবাদীর হাতে থাকা অস্ত্রনিয়ে ওই বাদীর মাথায় স্বজোরে আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরেন। এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করে পায়ের হাটুর হাড় ভেঙ্গে দেওয়াসহ তারা বুকের উপর উঠে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্ঠা করে। এসময় ৩ নম্বর বিবাদী এসে বাদীর গলা থেকে দশ আনা ওজোনের একটি স্বর্ণের চেন যার আনুমানিক মুল্য চল্লিশ হাজার টাকাসহ প্যান্টের ডান পকেট থেকে বারো হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অভিযোগকারীর বড়ো ভাই বলেন, আমার ছোট ভাইকে তার মেরেই ফেলতো। বিষয়টি এলাকাবাসি জানতে পারায় তাদের সহযোগীতা নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ভাই মোঃ গোলাম কিবরিয়া মানিককে নিয়ে ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে চাইলে বিবাদীগণ বাধা দিলে তাকে মাইক্রোবাসে করে দ্রুত পত্নিতলা (নজিপুর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ২ নম্বর বিবাদী মোঃ সোহরাব হোসেন গামা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাবার সারে ৫ শতক জমি জাল করে নিয়েছে। আমার বাবার সই না নিয়ে অন্য মানুষের সই নিয়ে তারা জমি রেজিস্ট্রি করিছে। প্রথমে সে আমার মাথায় আঘাত করে। আমি রক্তাক্ত আবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি অবস্থায় আছি। 

উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজান বলেন, বাদী বিবাদী ওরা চাচাতো ভাই। ওদের মধ্যে পারিবারকি ভাবে জমিজমা নিয়ে সমস্যা ছিল। তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। গোলাম কিবরিয়া মানিক গুরুতর আহত হয়ে নজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনা স্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :