জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে রাস্তায় রিক্সা শ্রমিকরা

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ব্যাটারি বা মোটরচালিত রিকশা ও ভ্যান চলছে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই ব্যাটারি বা মোটরচালিত রিকশা ও ভ্যান পেলেই খুলে ফেলা হবে এর যন্ত্রাংশ তথা মোটর।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলছে রিকশা ও ভ্যান চালক শ্রমিকরা। সরকারের এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে শ্রমিকগণ। এ সময় শ্রমিকদের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়ে তাঁদের জীবন ও জীবিকা বাঁচানোর তাগিদে রাস্তা অবরোধ করে মুক্তির স্লোগান দিতে শোনা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকালে ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়। এ সময় স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান শ্রমিত  এ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়।  এতে আরও অংশগ্রহণ করেন, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, ছাত্র সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

এ সময় বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুব আলম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আবু আস লাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন, রিক্সা শ্রমিকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব কাশেম আলী, রিক্সা শ্রমিক, মুহাম্মদ শামসুল হক, ইজিবাইক শ্রমিক  মানিক প্রমুখ।

এ সময়  বক্তারা বলেন,  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যে কারনের কথা বলে গাড়ি গুলো বন্ধ ঘোষণা করলেন তার জন্য দায়ি কারা বক্তারা এমন প্রশ্ন তোলেন? বক্তারা বলেন, গাড়ি যারা আমদানি ও তৈরি করেন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তাদের দায় আজকে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের উপর চাপানো হচ্ছে।  কারন হিসেবে গাড়িগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম ও ফিটনেসের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু গাড়ি আমদানির দায়িত্বে যারা আছে তাদের কে ধরা ছোয়ার বাইরে রাখা  হচ্ছে। এতে করে শ্রমিকরা বলির পাঠা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, এই করোনাকালে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়েছে। প্রতিদিন বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার নতুন করে পঞ্চাশ লক্ষ শ্রমিক ও তাদের পরিবার পরিজন মিলে আড়াই কোটি লোককে সর্বশান্ত করার সরকারি চক্রান্ত চলছে।  অবিলম্বে ত্রুটিমুক্ত উন্নত ডিজাইন ও নীতিমালা প্রণোয়ন করে যে গাড়ি গুলো চলছে তাদের ত্রুটি সমাধান করে  লাইসেন্স প্রদান করা হোক। সরকারের এমন গণবিরোধি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা আসে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে।

মন্তব্য লিখুন :