বিবাহ করে পরের দিন তালাক চেয়ারম্যানের

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিয়ের পরদিনই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী নাজনিন আক্তার (১৪) তালাক দিয়েছেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে (৬০)।

কাজী আবু সাদেক হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার (২৬ জুন) রাত ৯ টার দিকে নাজনিন ও চেয়ারম্যান শাহিন উভয়ই তালাক নামায় স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার (২৫ জুন) বাদ জুমা চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের সাথে নাজনিনের বিয়ে সম্পন্নের পর থেকেই নাজনিন শাহিন হাওলাদারের সাথে সংসার করতে রাজি হয়নি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের রমজান নামের এক যুবকের সঙ্গে চুনারপুল এলাকার নজরুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে নাজনিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিন্তু নাজনিন আক্তারের বাবা ওই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। তিনি বিয়ষটি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে নালিশ করেন। শাহিন হাওলাদার চুনারপুল বাজারে গত শুক্রবার শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে রমজান ও নাজনিন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শালিস বৈঠকে নাজনিনকে দেখে পছন্দ হওয়ায় চেয়ারম্যান শাহিন নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন। নাজনিনের বাবা সম্মতি দেওয়ায় জুম্মার নামাজের পর বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।

তবে বিয়েতে মেয়ের বয়স নিয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছিল। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর বলে সনদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে যে স্কুলে পড়ত, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কথা শুনে অবাক হয়েছেন। কনকদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র জানান, মোসাম্মদ নাজনিন আক্তার তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী, তার রোল ৮২১।

বিয়ের কাবিননামায় মেয়েটির জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে থাকা জন্মনিবন্ধন ও পঞ্চম শ্রেণি পাসের সনদ বলছে মেয়েটির জন্ম ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল। এছাড়াও  দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তার প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকেও কোনো অনুমতিও নেয়া হয়নি। যদিও কিশোরী নাজনিন আক্তারের বাবা এই বাল্যবিয়ে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে সালিশে গিয়ে নিজের প্রেমিকাকে হারানোর ঘটনায় বিষপানে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন রমজান। পরে রাতেই তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে শাহিন হাওলাদার বলেন, মেয়েটিকে দেখে আমার পছন্দ হওয়ায় তাকে বিয়ে করেছিলাম। এছাড়া আমার বিয়ে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ওই মেয়ে আমাকে স্বামী হিসেবে মেনে না নেয়ায় তালাক দিয়েছি। বর্তমানে মেয়েটিকে তার বাবার সঙ্গে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সোমবার পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে শাহিন হাওলাদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দুই সন্তানের জনক চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বড় ছেলে কিছুদিন পূর্বে বিয়ে করেছেন স্থানীয় বিএনপির সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের এক শ্যালিকাকে।

মন্তব্য লিখুন :