তজুমদ্দিনে ইউপি নির্বাচনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

ভোলার তজুমদ্দিনে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৪৩টি কেন্দ্র ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৭জন করে মোট ৭শত ৩১ জন আনসার সদস্য ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৫শত টাকা করে উত্তোলন করেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত প্রশিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও প্রশিক্ষিকা তহমিনা বেগম। তার ৭শ ৩১জন আনসার সদস্যের নিকট মোট উত্তোলন করেন ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫শত টাকা। এসব টাকা উত্তোলন করান ৫টি ইউনিয়নের ১৯জন ইউনিয়ন লিডারের মাধ্যমে।

এ নিয়ে সাধারণ আনসার সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে অনেক সাধারণ মানুষকে আনসার সদস্য দেখিয়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করিয়েছেন প্রশিক্ষিকা তহমিনা বেগম।

আলাপকালে এই প্রতিনিধির কাছে একাধিক আনসার সদস্য বলেন, নির্বাচনের কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক আনসার সদস্যের কাছ থেকে তজুমদ্দিন আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত প্রশিক্ষিকা তহমিনা বেগম ৫শত করে টাকা উত্তোলন করা ইউনিয়ন লিডারদের মাধ্যমে। এসব টাকা প্রশিক্ষিকা তহমিনা বেগম অফিস খরচের কথা বলে নেন। যে কারণে এবছর টাকা দিয়ে অনেকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন যারা সাধারণ মানুষ আনসার ও ভিডিপি’র কোন প্রশিক্ষণ নেই তাদের।

সোনাপুর ইউনিয়ন লিডার মোঃ আওলাদ বলেন, আমার কাছে অফিস টাকা চাইছে আমি টাকা দিয়েছিও। তবে কত টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

মলংচড়া ইউনিয়নের লিডার মোঃ হারুন বলেন, আমার কাছে কাগজ-কলমের খরচ বাদ তহমিনা বেগম খরচ চেয়েছে। আমি দেই নাই, নির্বাচনের ডিউটির পর টাকা দিবো বলছি।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা প্রশিক্ষণ বিহীন আনসার সদস্য রুবেল বলেন, আমি ৩শত টাকা দিয়ে দায়িত্ব পালন করি। আমার কোন প্রশিক্ষণ নেই। নির্বাচনের আগে একদিন আমাকে প্রশিক্ষণ দিছে অফিস।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন আনসার ও ভিডিপি অফিসে কর্মরত প্রশিক্ষিকা তহমিনা বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সত্য নয়।

প্রশিক্ষণ বিহীন আনসার সদস্য নেয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা ৩দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তবে তাদের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং অফিসে এ সংক্রান্ত কোন ফাইল নেই বলেও জানান।

আনসার ও ভিডিপি’র ভোলা জেলা কমান্ডার আহসান উল্লাহ’র কাছে এ বিষয়ে জানতে দুইদিন ফোন দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি সেমিনারে আছে বলে ফোন কেটে দেন। যে কারণে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।


মন্তব্য লিখুন :