উজিরপুরে আলোচিত ব্যবসায়ী টুনু হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

বরিশালের উজিরপুরে আলোচিত ব্যবসায়ী টুনু হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুন) বেলা ১১ টায়  হারতা বন্দরের প্রধান সড়কে বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়ন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ। এসময় বিক্ষুব্ধরা গ্রেফতারকৃত খুঁনি মিতু ভাংরার ফাঁসির দাবী জানান এবং বাকী জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ২ ঘন্টা ব্যাপী মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

উল্লেখ্য ২৫ জুন রাত পৌনে ২ টায় পরকীয়া প্রেমিকা মিতু ভাংরার জামবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসার সামনে থেকে বাস কাউন্টারের টিকিট ব্যবসায়ী বাসুদেব চক্রবর্তী (টুনু) কে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন হারতা বাজারে ডাঃ নগেন্দ্র হালদারের ফার্মেসীতে নেয়া হলে সেখানে ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে তাকে মৃত্যু ঘোষনা দেয়।

এরপর ২৬ জুন সকালে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। এ ঘটনায় ২৭ জুন রবিবার নিহত ব্যবসায়ীর বড় ভাই বরুন চক্রবর্তী বাদী হয়ে মিতু ভাংরাকে প্রধান আসামী ও অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসামী করে ২০/২১নং একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী বাসুদেব চক্রবর্তী টুনু (৪৫)  উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মৃত নারায়ন চক্রবর্তীর ছেলে ও ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য নিখিল চক্রবর্তীর ভাই বাস কাউন্টারের টিকিট ব্যবসায়ী ২ সন্তানের জনক। মিতু ভাংরার প্রথম বিবাহ হয় পয়সারহাট বামশীল। সেখানে ২টি সন্তান রয়েছে। ২য় বিবাহ হয় কুচিয়ারপার হিরো মল্লিকের সাথে সেখানেও ১টি পুত্র সন্ত্রান রয়েছে। সে জামবাড়ী এলাকার কালাম সরদারের বাড়ীতে ভাড়ায় থাকেন। স্থানীয়দের দাবী মিতু ভাংরার সাথে ২ বছর ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। একারনেই তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বিক্ষুব্ধরা শ্লোগানে প্রধান আসামী মিতু ভাংরার ফাসিঁ ও হত্যাকান্ডে বাকী জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান। অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসুচি দেয়ার হুমকী দেয়। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল আহসান জানান হত্যা মামলা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান আসামী মিতু ভাংরাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত’র রিপোর্ট এবং তদন্ত সাপেক্ষে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য লিখুন :