এনজিওর কিস্তির চাপ, যুবকের বিষপানে আত্মহত্যা

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের বিল বরুহা এলাকায় এক যুবক কিস্তির টাকা দিতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

হাবীবুরের স্ত্রী জানান ‘ব্র্যাক’ নামক একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা থেকে ৪০ হাজার টাকা, 'আশা' থেকে ৭ হাজার টাকা, 'গ্রামীন' থেকে ৫ হাজার সাপ্তাহিক-মাসিক কিস্তিতে ঋণ নেয়। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও অভাব অনটনের সংসার, এদিকে করোনা কালীন লকডাউন এর কারণে কাজ করতে না পাড়ায় হাবীবুর কিস্তি দিতে হিমসিম খাচ্ছিল, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ তার জন্য কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছিলো।

প্রতি মাসের মতো এই মাসেও কিস্তি দেওয়ার কথা হাবীবুরের। কিন্তু লকডাউনে কোনো কাজ করতে না পারায় কিস্তি যোগার করতে অক্ষম হয়ে পরে, এমতাবস্থায় এনজিও’র লোকজন সকাল-বিকাল তার বাড়িতে এসে কিস্তি জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু হাবীবুর কোন অবস্থাতেই কিস্তি সংগ্রহ করতে না পারায়, লজ্জায় নিজ বসত বাড়ির পূর্ব তিন রাস্তার মোড়ে বিষপানে আত্মহত্যা করে।

হাবীবুরের স্ত্রী আরও বলেন, আমার স্বামী একজন দিনমজুর। সে লকডাউনে কোনো প্রকার কাজ কর্ম করতে পারেনা। আমার দুই সন্তান নিয়ে অভাবের সংসার। তাই অভাবের মধ্যে সংসারের প্রয়োজনে ‘ব্র্যাক’ নামক এক এনজিও থেকে ৪০০০০ টাকা উত্তোলন করি। প্রতিমাসে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এনজিওর লোকজন আমাদের বাসায় এসে কিস্তির জন্য তাগাদা দিতে থাকে ও নানাধরনের কথাবার্তা বলে।

এ বিষয়ে মাহমুদনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান জানান, হাবীবুর মাসিক কিস্তিতে কিছু টাকা আনে। নিয়মিত সে কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলো না বলে ‘ব্র্যাক’ এনজিওর কর্মকর্তারা সকাল-সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে তাকে কিস্তির জন্য চাপ দেয়। কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় ও তাদের চাপের কারণে লজ্জায়, অপমানে বিষপান করলে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

মন্তব্য লিখুন :