সান্তাহার হোটেল স্টারের ওয়ারিশ পলাতক

লীজ গ্রহীতার মৃত্যু হওয়ায় ও তার ওয়ারিশগণ হোটেল পরিচালনাকারী একাধিক ছেলেরা পলাতক থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে হোটেলটি।

বৃহত্তর সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের সড়কের পাশে গড়ে উঠেছিল স্বনামধন্য খাবারের হোটেল স্টার। সবসময় লোকজনের ভিড় লেগেই থাকতো। বসে থাকা লাগতো খাবারের জন্য অর্ডার দিয়ে । ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার জংশন স্টেশনের পার্শ্বে রেলওয়ের জমিতে লীজ নিয়ে গড়ে তুলেন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান স্টার নামক এই হোটেলটি। সেই অভিভাবকহীন হোটেল এখন সিলগালা। ফলে বকেয়া থেকে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

জানা যায়, রেলকর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৃত ওছমান গুণি রেলের জায়গা লীজ নিয়ে সান্তাহার পৌর শহর স্টেশন এলাকায় স্টার নামক একটি খাবারের হোটেল খুলেন।

একসময় ওছমান গুণির পাশাপাশি তার একাধিক ছেলেরা দায়িত্ব নিয়ে ওই হোটেল পরিচালনা করতেন। নিয়মিত জায়গার খাজনা পরিশোধ করতেন। ভালোই চলছিল হোটেলটি। বিপত্তি ঘটে অতি লোভে। কথাই আছে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। আর এই অতি লোভের আশায় ওছমান গুণির তৃতীয় ছেলে এস এম জুয়েল আপ্রকাশি সংস্থা নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান খুলেন। বেশি মুনাফা দিতে চেয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে আমানত হিসেবে প্রায় ৩৫কোটি টাকা জমা নেন।

একসময় আমানতের সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যান। এখনও পলাতক আছেন সংস্থাটির কর্ণধারসহ হোটেল পরিচালনাকারী ছেলেরা। কোন উপায় না পেয়ে আপ্রকাশি এনজিওতে আমানত হিসেবে জমা রাখা পাওনাদাররা তাদের অন্যান্য সম্পত্তিসহ হোটেল স্টার দখল করে নেন। দখলদাররা ২০১৬ সাল থেকে ওই খাবারের হোটেল পরিচালনা করতেন। কিন্তু তারা নিয়মিত ওই হোটেলের খাজনা পরিশোধ না করায় বছরের পর বছর বকেয়া থেকে যায়। ফলে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে থাকে সরকার। এখনও হচ্ছে।

অবশেষে রেলকর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৭জুন এস্টেট বিভাগের অফিসার নুরুজ্জামান ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৬ বছরের মোট প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা বকেয়া থাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সিলগালার মাধ্যমে হোটেলটি তাদের হেফাজতে নেন।

এরপর থেকে সিলগালা অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সুনামধন্য হোটেল স্টার।

এদিকে লীজ গ্রহীতা ওছমান গুণি জীবিত না থাকায় ওয়ারিশ সূত্রে হোটেল স্টারের ভোগ দখল করতে পারবেন তার ছেলে-মেয়েরা। কিন্তু তার একাধিক ছেলেরা পাওনাদারদের ভয়ে পলাতক আছেন। ফলে এখন কে দিবে; হোটেল স্টারের বকেয়া টাকা? এমন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। আদৌও মৃত ওসমান গুণির পলাতক ছেলেরা এলাকায় আসবেন কিনা? হোটেলে বসবেন কিনা? এ নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিওবা বসেন তাহলে পাওনাদারদের টাকা শোধ না করলে একটা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাহলে কি হবে হোটেল স্টারের? সিলগালা অবস্থায় কি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে? তাই লীজকৃত হোটেল স্টার থেকে সঠিক সময়ে রাজস্ব আদায় করতে রেলকর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ আশা করছেন এলাকাবাসী।

সচেতন নাগরিক গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, জুয়েলের জন্য হোটেল স্টারের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। পাওনাদাররা তাদের অনেক সম্পত্তি দখল করেছেন। যেহেতু ওছমান গুণির একাধিক ছেলেরা পলাতক। তাই রেল কর্তৃপক্ষের এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যেন হোটেল স্টার আগের সুনাম ফিরে পায়। এবং সরকার যেন সঠিক সময়ে রাজস্ব পায়।

পাকশী ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, হোটেল স্টার সিলগালা করেছি বকেয়া খাজনার টাকা আদায়ের জন। সিলগালা করার পর এখন অনেকেই যোগাযোগ করছে। অন্য কেউ বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে চাইলেই আমরা তার নামে করে দিতে পারিনা। যদি কেউ দিতে চায় তবে পূর্বের লীজ গ্রহীতার নামেই থেকে যাবে।

ওই জমির লীজ বাতিল করা যায় কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, লীজ সহজে বাতিল করা যায় না, সার্টিফাইড মামলা করা যায়। তবে কোন ভাবেই যদি পূর্বের লীজগ্রহীতা যোগাযোগ না করে বা বকেয়া টাকা আদায় না হয় সেক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :