মতলব দক্ষিণে

নিম্নআয়ের মানুষের পাশে নেই কেউ!

করোনাভাইরাস এর বিস্তার রোধে চলমান কঠোর লকডাউনে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে নেই সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানরা। গেল বছর নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের হিড়িক থাকলেও এবছরের চিত্রটা অনেকটাই উল্টো।

সরেজমিনে দেখা যায়, করোনাভাইরাসে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া লোকজনের অভাব ও কষ্টের জীবনযাপন চলছে। পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের পর থেকে নিম্নআয়ের মানুষ এর পাশাপাশি নিম্ন মধ্যবিত্তরা রয়েছেন বেশ বিপাকে। বিশেষ করে দৈনিক আয় এর উপর যাদের সংসার চলে সেই সকল পরিবারের মাঝে দিনে দিনে বাড়ছে হতাশা।

গতবছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের মধ্যে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে হতদরিদ্রদের মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে দেখা গেলেও এবছরের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। সেই সাথে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নেই হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে।

উপজেলার নওগাঁও গ্রামের দিনমজুর তাফাজ্জল মিয়াজী জানান, আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ, দিন এনে দিন খাই কিন্তু লকডাউন এর কারণে আমার বর্তমানে কোন কাজ কাম নেই, আমার ছয় সদস্যের সংসার চালাতে আমি এখন হিমশিম খাচ্ছি, গতবছর খাদ্য সহায়তা পেলেও এবছর এখন পর্যন্ত কোন সহায়তা পাইনি তাই আমার সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার পদ্মপাল গ্রামের রফিক মিয়া,পশ্চিম বাইশপুর গ্রামের দিনমজুর মোহাম্মদ রফিক, পাটন গ্রামের তাজুল ইসলাম সহ একাধিক দিনমজুরের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবারের লকডাউনে তাদের সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গতবছর লকডাউন এর সময় বিত্তবানরা খাদ্যসহায়তা দিল এবারে নেই।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, লকডাউনে আমাদেরও বিধিনিষেধ অমান্য করে দোকান খুলতে মন চায় না। ঘরে বাজারের টাকাও নেই। তাই  কাঁচাবাজারটা যাতে করতে পারি সেজন্য কোনোরকম খুলে ক্রেতার আসায় দোকানের কাছেই অবস্থান করি। কোনো ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারলে, সেই টাকা দিয়ে বাজার করে ঘরে ফিরি। জানি না আর কতদিন এমন কষ্টে চলতে হবে।

খাদ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর সিইও রিয়াদ সরকার জানান, পহেলা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম খান জানান, খাদ্য সহায়তার জন্য যে সকল ব্যক্তি ৩৩৩ কে কল করেছিল তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চলমান লকডাউন এর সময়সীমা বৃদ্ধি খবরে অনেক দিনমজুরের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কর্মহীন হয়ে থাকার সময় সংসারের খরচ জোগাড় করতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। তাদের আশা করোনাকালীন এর দুঃসময়ে সমাজের বিত্তবানরা তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

মন্তব্য লিখুন :