বারোমাসি তরমুজে ভালো ফলনেও লোকসানের মুখে চাষি

বাগেরহাটে বারোমাসি তরমুজ চাষ করে সফলতা পেলেও করোনাকালিন সময়ে লোকসানের মুখে পড়তে বসেছে চাষিরা। বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার নতুন প্রজাতির হলুদ জাতের মধুমালা নামের তরমুজ চাষ করেছে কৃষকেরা। কৃষকদের ভালো উদপাদন দেখে অনেকেই উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে এই তরমুজ চাষে। হলুদ জাতের এ তরমুজ চাষে জনসাধারনের মনে সাড়া জাগাতে সক্ষম হলেও করোনা বিধিনিষেদের কারনে উদপাদিত তরমুজ সঠিক ভাবে বাজারজাত করা নিয়ে চরম দূশ্চিন্তায় চাষিরা। 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ গ্রামের কৃষক জাকির শেখ বলেন, চলতি বছর ১ একর ১০ শতক জমি নিয়ে ঘেরের পাড়ে তিন প্রজাতির তরমুজ চাষ করি। তিন প্রজাতির তরমুজের মধ্যে হলুদ প্রজাতির ‘মধুমালা’ নামের তরমুজ অন্যতম। অন্য দুই প্রজাতি হল কালো ও বাংলালিংক ছাপা কালারের তরমুজ। ঘেরের পাড়ে ভেড়িতে বাঁশের মাঁচা করে চাষ করতে হয় এই তিন প্রজাতির তরমুজ। তার এই তরমুজ চাষে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছরে ৪ হাজার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান।

তিনি বলেন, তরমুজ চাষে প্রচুর ফলন পেলেও বিক্রি নিয়ে চরম দূশ্চিন্তায় রয়েছি। করোনায় বিধিনিষেদের কারোনে সঠিক ভাবে বাজার জাত করতে পারছিনা। ভাবছিলাম ৫-৬ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারো। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছি। এখন যে পরিস্থিতি তাতে আমার চালান উঠানো কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কৃষক রতন দাস বলেণ, ইউটিউব দেখে বারোমাসি তরমুজ চাষে অনুপ্রানিত হই। ঘেরের প্রায় এক একর জায়গায় ঘেরের পাড়ে বাশেঁর মাচা করে তরমুজ চাষ করি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার তরমুজ উদপাদিত হয়েছে। যার প্রতিটি তরমুজের ওজন ২ কেজি থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত। প্রচুর ফলন হয়ে মনে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু তরমুজ বিক্রি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। 

এ বিষয়ে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে জেলার অনেক কৃষক এই বারোমাসি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তরমুজের জীবনকাল তিন মাস। রোদের তাপমাত্রা ও মাউশিং শিপট ছাড়া এ তরমুজ চাষ করা সম্ভব নয়। বছরে তিনবার এ তরমুজ উৎপাদন করা সম্ভব। এ তরমুজ চাষ করে কৃষকদের দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। করোনাকালীন সময়ে কৃষকদের উদপাদিত পন্য বাজারজাত করনের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন :