পরকীয়ার বলি আশুলিয়ার ডিস ব্যবসায়ী

প্রেমিকসহ গ্রেফতার নিহতের স্ত্রী

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ ঘরে ডিস ব্যবসায়ী ইলিম সরকারকে (৪২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর যোগসাজশে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভিকটিম মৃত এলিম সরকারের স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমিলি এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আঃ সামাদের ছেলে মোঃ রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে ২৮ মার্চ সিনেমা স্টাইলে স্বামী ইলিম সরকারকে হত্যা করেন স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টুসহ তার সহযোগী। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যকে বিভ্রান্ত করতে কন্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন নিহতের স্ত্রী।

নিহত ইলিম সরকার আশুলিয়ার কাঠগড়া সরকারবাড়ি এলাকার হাজি ফজল সরকারের ছোট ছেলে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে ডিসের ব্যবসা করছিলেন। তার ১০ বছর বয়সের ছেলে কাইফ ও ৭ বছরের কাশফিয়া নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী তার নানাবাড়ি কাঠগড়া থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে ইলিম সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৪ বছর আগে বিয়ে করে তারা দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি পরকীয়ার জালে আটকা পড়েন। ২০১৯ সাল থেকে পিন্টুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পরে পরকীয়া সম্পর্কের পথের কাটা তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ মার্চ সকালে ঘুমের মধ্যেই ইলিম সরকারের কুপিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ সহযোগীরা। এর আগে দুইজন ভাড়াটে খুনিকে ভুক্তভোগীর বাসায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পিন্টু। তবে ভাড়াটে খুনিরা ব্যর্থ হয়।

পিবিআই জানায়, ইলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে এসে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে ২০১৯ সালে পরিচয় হয় পিন্টুর। এর পর তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ইলিম সরকার জানতে পারলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি কেমিলির স্বামী তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে প্রকাশ করে দিবেন বলে জানান। এই ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে মারাত্মক দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। উক্ত পরকীয়া বিষয়টি যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে তার জন্য ঘটনার এক সপ্তাহ আগে কেমিলি এবং তার পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু মিলে এলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু ভিকটিমের বাসায় দুজন ভাড়াটিয়া খুনি বাসা ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তারা কাজটি না করতে পারায় পিন্টু নিজেই কাজটি করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২৮ মার্চ সকাল অনুমান ০৯ টার দিকে  কেমিলির পরামর্শে পিন্টু তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেমিলি রাতের বেলা দই এর সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে এলিম সরকার কে খাইয়ে দেয়।

উক্ত ঘুমের ট্যাবলেট গুড়া করে কেমিলিকে সরবরাহ করে পিন্টু। ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে এলিম সরকার নিস্তেজ হয়ে গেলে সকাল বেলা পিন্টু তার অপর সহযোগী নিয়ে বাসায় এসে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এলিম সরকারকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে এলিম সরকারের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ এর ডিভিআর খুলে নিয়ে যায়।

বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ক্যামিলির স্ত্রী ডিস ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে উক্ত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রচার করতে থাকে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপপরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান বলেন, এ ঘটনায় পিন্টুর সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারের আগে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন :