প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতিতে হতবাক শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রকিবুল হাসান ওরফে রকীব মাস্টার এর দূর্নীতির বিরুদ্বে বিক্ষোভ করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ রকিবুল হাসান স্কুলে অ্যাসাইনমেন্টে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া, কোচিং বাণিজ্য, অন্য স্কুলের নামে ফরম পূরণ করাসহ নানা ব্যাপারে দূর্নীতি করে আসছে।

২০২০ সালের জে এস সি পরীক্ষায় অনেক ছাত্র অংশ গ্রহন করেন। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১২ জন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট, হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে এসেছে। প্রশংশা পত্র নেওয়ার সময় বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রকিবুল হাসান নিম্নমানের স্বল্প পরিচিত প্রভাকরদী হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশংসা পত্র দেয়। প্রশংশা পত্রে স্বাক্ষর করেননি বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রকিবুল হাসান। এসকল ছাত্ররা স্বনামধন্য বোয়ালিয়া নেজামুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। কিভাবে অন্য একটি নিম্নমানের স্কুলে ফরম ফিলাপ হল আর প্রশংশা পত্রই-বা কিভাবে আরেক স্কুল থেকে হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, এভাবে হওয়ায় তাদের চাকুরীর ক্ষেত্রে বা অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হবে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, প্রধান শিক্ষক রকিবুল হাসান দূর্নীতি করে তাদেরকে সমস্যার সমমূখীন করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক এর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ২০ টাকা করে এবং এ্যাসাইনমেন্ট সময় মত জমাদিতে না পারলে আরো ২০টাকা জরিমানা নেয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের ছত্র ছায়ায়, অত্র স্কুলের শিক্ষক রনজিৎ সেন ও শামিমা বেগম কোচিং বানিজ্য করে। কোন শিক্ষার্থী প্রাইভেট না পড়তে চাইলে পরীক্ষায় ফেল করাবে বলে হুমকি দেয়।

বোয়ালিয়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত দত্ত বলেন "এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না। আমার প্রধান শিক্ষক যা করতে বলেছে আমি সেটাই করেছি। প্রধান শিক্ষক যে কাজ করেছে এটা সরল বাচ্চাদের সাথে বেইমানি, ন্যাক্করজনক, কোনভাবেই  মেনে নেয়া যায়না। কিন্তু আমাকেও জড়িয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, এতে আমি জড়িত নেই।"

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক রাকিবুল হাসানের কাছে জানতে কারিগরি ত্রুটির কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "কম্পিউটারে কম্পোজ করে পাঠানোর সময় ভূলে অন্য স্কুলের নামে চলে গেছে।"

প্রভাকরদী হাজী ছখিউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আযাদ জানান, "আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য বোয়ালিয়া নিজামউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন আমাদের বিদ্যালয় থেকে করা হয়েছে। তারা কখোনো আমাদের স্কুলে ক্লাস করেনি। তারা ওই স্কুলেই ক্লাস করেছে সার্টিফিকেট আমার স্কুল থেকে পেয়েছে।"

অত্র স্কুলের সভাপতি মোঃ কাজী ফিরোজ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, স্কুলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে এটা সত্য।  কিন্তু স্থানীয় ভাবে আলোচনা আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে না মিমাংশা করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যপারে মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাদৎ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। এ্যাসাইনমেন্টের জন্য জরিমানার কোন সুযোগ নেই, যদি কেউ নেয় তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন :