দরপত্র ছাড়াই স্কুলের ঘর বিক্রি!

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনের ঘর দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েক জন আবার বলছেন সরকারী স্কুলের মালামাল বিক্রি করে স্কুলে খিচুড়িও খাওয়া হয়েছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেনকে ঘটনার সত্যতার বিষয়ে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন সংবাদ পরিবেশন করতে নিষেধ করেন এবং চা খাওয়ার জন্য দেখা করতে বলেন।

ধামরাই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের নান্নার বাজার এর সাথেই রয়েছে ৮১ নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাজারের কয়েকজন দোকানদার জানান, গত শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৮/১০ মণ টিন ভর্তি একটি ভ্যান বাজারে দাড়িয়ে ছিলো। টিন বেশি ভরা ছিলো বলে ভ্যানটি উল্টো হইয়ে যায়। এবং টিন নিতে আসা এক জন হঠাৎ করেই অসুস্থ হইয়ে পরে। পরে টিন ভর্তি ওই ভ্যান গাড়ির চাবি স্থানীয় এক চায়ের দোকানে রেখে অসুস্থ ব্যাক্তিকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। পরে আবার বিকেলে এসে টিনসহ ভ্যান নিয়ে যায় তারা।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৮১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির কারণে পুরাতন টিনের ঘর ভেঙ্গে দরজা, জানালা, গেইটসহ কিছু টিন রেখে দিয়েছে।

স্কুলের পাশেই বাজারের কয়েকজন দোকানদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার স্কুল থেকে প্রায় ৮/১০ মণ পুরাতন টিন ভ্যান ভরে কয়েকজন নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানটি উল্টো হইয়ে পরে যায়। এবং টিন নিতে আসা একজন হঠাৎ করেই অসুস্থ হইয়ে পরে। যার জন্য বিষয়টি বাজারের অনেকের নজরে আসে।

জানা যায়, এর আগে ধামরাই উপজেলার সাবেক ইউএনও মোঃ সামিউল হকের সময়ে সঠিক দাম যাচাই-বাছাই না করে ২২ হাজার টাকায় টেন্ডার হয়।কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তখন যারা জামানত জমা দিয়েছিলেন তারা দাম না হেকে জামানতের টাকা ফেরত নেন। পরবর্তীতে আবারও টেন্ডার হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এই সুযোগে গত শনিবার লোকজনের অগোচরে গোপনে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন স্কুলের প্রায় ৮/১০ মণ টিন বিক্রি করে দেয়।

টেন্ডার ছাড়া ইচ্ছে মত কেন সরকারি স্কুলের মালামাল বিক্রি করলো এবং সেই টাকা কোথায় গেলো সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের। এঘটনায় আলোচনা সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছে স্থানীয়রা। মালামাল ক্রয় করতে আসা তিন জন লোকের মধ্যে ১ জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় গাড়ির চাবি স্কুলের পাশে বাজারের এক চায়ের দোকানে রেখে চলে যায় হাসপাতালে। পরে ওই দিনই বিকেলে যারা স্কুলের মালামাল ক্রয় করেছে তারা এসে মাল নিয়ে যায়।

স্কুলের সাথেই বাজারের এক ব্যবসায়ী সালাম ফেরাজী বলেন, গত শনিবার আমার দোকানের সামনেই টিন ভর্তি এক ভ্যান দেখেছি। ভ্যানটি উল্টো হইয়ে গেছিলো। এবং তাদের একজন অসুস্থও হইয়েছিলো। ভ্যানে প্রায় ৮/১০ মণ টিন হবে। পরে জানতে পারি যে ওই টিন গুলো সব আমাদের স্কুলের।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হানিফ ও আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের সামনেই টিন ভর্তি ভ্যান গাড়ি নিয়ে গেছে গত শনিবার বিকেলে। যারা মালামাল ক্রয় করেছে তাদের চিনি না। জিজ্ঞেসও করি নাই কার টিন। কিন্তু পরে জানতে পারি যে সব গুলা স্কুলের টিন ছিলো। আরো কিছু টিন রয়েছে স্কুলে।

স্কুলের পাশে নান্নার বাজারের চায়ের দোকানকার তাসলিম হোসেন বলেন, টিন ভ্যানে করে নেওয়ার সময় তাদের এক লোক অসুস্থ হয়ে পরে। তখন আমার দোকানে টিন ভর্তি ভ্যান গাড়ির চাবি রেখে অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। পরে সন্ধ্যার আগে মালামাল বেশি থাকার কারণে দুটি ভ্যান দিয়ে মাল নিয়ে যায় তারা। কিন্তু যারা স্কুলের জিনিস পত্র কিনে নিয়ে গেছে তাদের আমি চিনি না।

৮১ নং নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালামকে পুরাতন স্কুল ঘরের টিন বিক্রি করার কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি প্রধান শিক্ষককে পুরাতন স্কুল ভাঙার মালামাল এক জায়গায় রেখে দিতে বলেছিলাম। এটা তো বিক্রি করার কথা না।

গত শনিবার স্কুলের টিন ভ্যানে করে নিয়ে যেতে বাজারের অনেকেই দেখেছে বিষয়টি আপনি জানেন কিনা এমন প্রশ্নের পর সভাপতি নিউজ না করে পরে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়াও তিনি একাধিক ব্যাক্তিকে দিয়ে নিউজ না করার জন্য আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদককে ফোন দেওয়ান।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ( প্রাথমিক) তাজমুন নাহার বলেন, এর আগে নান্নার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন টিন সিড স্কুলের টেন্ডার হয়েছিল। দাম বেশি থাকায় তখন বিক্রি হয় নি। দু'দিন আগেও ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আবার আমাকে বলেছিলো। আমি নতুন করে আবেদন দিতে বলেছি। এতে নতুন টেন্ডার হবে।

তিনি আরো বলেন, বিক্রি করার বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। টেন্ডার ছাড়া তিনি সরকারী স্কুলের মালামাল এ ভাবে বিক্রি করতে পারেন না। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেব। কোন ভাবেই তিনি স্কুলের জিনিস বিক্রি করতে পারেন না। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির লোকজন ও স্কুলের শিক্ষক ছাড়া এ কাজ কারও পক্ষে সম্ভব নয়।

মন্তব্য লিখুন :