শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় সখিপুরে শিক্ষার্থীদের উৎসব

সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের তান্ডবে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে প্রায় দেড় বছর পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে, রবিবার (১২সেপ্টেম্বর) সারাদেশে খোলা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সীমিত পরিসরে চলবে পাঠদান। এই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে সখিপুরেও খোলা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে রয়েছে তাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু সুনির্দিষ্ট রুটিন ব্যবস্থার কথা জানা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সখিপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম সখিপুর পি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড (গভঃ) কলেজ। রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট ক্লাস রুটিন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে আপাতত বন্ধ থাকছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে রয়েছে তাপ নিরীক্ষণ যন্ত্র। বিদ্যালয় প্রবেশে রয়েছে বিশেষ নজরদারি।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা অর্জন শেষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ সহ দেশ-বিদেশের অনেক নামিদামি ইউনিভার্সিটি থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত রয়েছেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সেই পিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আজ সখিপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল এন্ড (গভঃ) কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বলা যেতে পারে বর্তমানে অত্র বিদ্যাপীঠে কর্মরত প্রায় বেশিরভাগ শিক্ষকই এই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের ছাত্র ছিলেন। 

বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন তিনজন শিক্ষক। কুশল বিনিময় শেষ হতে না হতেই বিদ্যালয়ের দপ্তরি মনের আনন্দে দীর্ঘদিন পর সময়ের ঘণ্টা বাঁজাতে শুরু করেছেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয় গেইটের বাহিরে উপস্থিত অভিভাবকদেরও দেখা যায় একটি অন্যরকম আনন্দে আপ্লুত।

কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফির সঙ্গে, তিনি বলেন আজ অনেকদিন পর দপ্তরির বেল বাজানোর শব্দ শুনে বুকটা আনন্দে ভরে গেছে। পাশেই বসে থাকা অপর এক শিক্ষক বলেন "আসলেই" কতদিন শুনা হয় না এই বেল বাজানোর শব্দ, সত্যিই এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও পরিলক্ষিত হয় এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ।

এ বিষয়ে সখিপুর পিএম পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড (গভঃ)কলেজের অধ্যক্ষ কেবিএম খলিলুর রহমান বলেন,সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় "প্রধানমন্ত্রী" জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সেই সাথে শিক্ষা

মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, ডাঃ দীপু মনিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তিনি আরো বলেন বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় পাওয়া। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়ীক বন্ধ থাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলা,শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোবলের বড়ো একটা অংশ। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য লিখুন :