প্রেমিককে ভয় দেখাতে প্রেমিকার অভিনব কৌশল, ছিনতাইকালে আটক ১

প্রেমিকের সাথে প্রেমিকার সম্পর্কের অবনতি, টানতে চাচ্ছিলেন এ সম্পর্কের ইতি। তাই সহযোগিতা নেন নিজের বাল্যবন্ধুর। চেয়েছিলেন ভয় দেখাবেন। পরিকল্পনা মতো বাল্যবন্ধু ও হাজির তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে। তবে ঘটনাস্থলে ঐ এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারীর উপস্থিতে পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন সংলগ্ন পাশ্ববর্তী সামাজিক বনায়ন এলাকার ঘটনা। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াই ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় বহিরাগত এক প্রেমিক যুগল ঘুরতে আসলে তাদেরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছিনতাইকারীদের সাথে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে সামাজিক বনায়নে ঘুরতে আসেন মুন্সিগঞ্জের বাহরাইন প্রবাসী রাসেল দেওয়ান ও কুমিল্লার চান্দিনার এক ছাত্রী। তাদের দু’জনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু কিছুদিন ধরে সম্পর্কের অবনতি হলে ঐ ছাত্রী রাসেলকে কুমিল্লায় এসে দেখা করতে বলেন৷ রাসেল মুন্সিগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় আসলে তাকে সামাজিক বনায়নে নিয়ে আসেন ঐ ছাত্রী। এদিকে ঐ ছাত্রী তার ছোটবেলার বন্ধু আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলামকে নিয়ে রাসেলকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুসারে আজহার ও তার বন্ধু কুবির আইসিটি বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এইচ সাকিবসহ ৭-৮ জন রাসেলের ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর করেন। এসময় সালমানপুর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী টারজান গ্রুপের সদস্য ইকবাল হোসেন, নয়ন, মিজান ও আলাউদ্দিন এসে আবার শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত রাসেলের মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেন। এসময় বাঁশ, লাঠি দিয়ে তাদের মারধরও করে এ ছিনতাইকারীরা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে টারজান ইকবাল ও আলাউদ্দিনকে গণধোলাই দিয়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। এদিকে রাসেল ও ঐ ছাত্রীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় এবং ইকবালকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অধিকাংশ ছিনতাইয়ে ইকবালের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাহরাইন প্রবাসী রাসেল বলেন, আমাদের ৫-৬ বছরের সম্পর্ক। আমাদের দুই ফ্যামিলি বিষয়টি জানতো। কিন্তু কেন এমন ঘটনা করলো বুঝতে পারছি না।

অভিযুক্ত আজহার ঐ ছাত্রীর বিষয়ে বলেন, মেয়েটি আমার বাল্যবন্ধু। সে আমাকে তার প্রেমিকের আসার কথা বলে নিয়ে আসেন। এতবড় ঘটনা হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।

ছিনতাইকারী ইকবাল বলেন, কয়েকজন মিলে ছেলে ও মেয়েকে মারধর করতেছে দেখে আমি, নয়ন, মিজান তাদের বাচাঁতে ছুটে আসি। হাতে গাছ নিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করি। আমি কোন মোবাইল নেই নি।

এ বিষয়ে কোটবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা একজন ছিনতাইকারী আটক করেছে শুনে আমি যাই। আটক ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ ছিল। আমরা তাকে থানায় প্রেরণ করেছি। তার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্যদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আটককৃত ছিনতাইকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জড়িত বিষয়ে তিনি বলেন, সে যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থী। ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপাচার্য বরাবর প্রেরণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :