ধামরাইয়ে ফের স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলা, আহত ১৪

ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নে তৃতীয় বারের মত স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলা চালিয়েছে নৌকার মনোনয়ন প্রার্থীর লোকজন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রভাষক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন ও তার সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করতে গেলে ফের তাদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কমপক্ষে ১৪ জন কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের ডাউটিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নৌকার সমর্থক শামীম ও কবিরের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় শামীম ও তার পেটুয়া বাহিনী।

আহতরা হলেন- নাহিদ (১৮), অন্তর (১৮), রাহিম (১৯), মবেদ আলী (৬০), আব্দুর রউফ (৫০)। এছাড়া আরও কমপক্ষে ১৭ থেকে ১৮ জন  আহত হন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায় নি।

হামলায় আহত আব্দুর রউফ বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে প্রচারণা শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম।

এসময় পিছন থেকে আজহার চেয়ারম্যানের আজহার আলীর লোক শামীম, কবির, আজহার আলী ছেলে শিমুল, আজহারের গাড়ির চালক একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে নেমে লাঠি-সোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় গুরুতর আহত হয় তিন জন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ১২ থেকে ১৪ জন আহত হয়েছে।

আহত অন্তর বলেন, শামীম ও কবিরের নেতৃত্বে একটা বাহিনী তৈরি করেছে। তারা একটি গাড়িতে সব সময় লাঠিসোঁটা রাখে। নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলেই গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় হামলা চালায়। তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মবেদ আলী কেঁদে কেঁদে জানান, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের লোকজনদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাস্তা পাড়াপাড় করছিলাম। তখন আজহার চেয়ারম্যানের লোকজন এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমাকে মারতে মারতে কাঁদার মধ্যে ফেলে দিছে। কাঁদার মধ্যে ফালানোর পরও আমাকে লাঠি দিয়ে সারা শরিরে মারছে।

এব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেন বলেন, আমাদের প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ডিসি মহোদয় বলে গেলেন নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আচরণবিধি মেনে চলতে গিয়ে শুধু মার খাচ্ছি। আমি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। এবার নিয়ে তিনবার আমার ও আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালালো তারা।

এবিষয়ে কথা বলতে নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহার আলীকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ধামরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকেও পাওয়া যায় নি।

ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুল বলেন, আমার চোখে আহত কেউ পড়েনি। এক চাচা দৌড় দেওয়ার সময় পানিতে পড়ে ভিজে গেছে। আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম।

মন্তব্য লিখুন :