নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তামার তার চুরি

মুছলেখা দিয়ে ছাড়

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভিতর তামার তার চুরির সময় রুবেল হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন থানা পুলিশে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু সদর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুছলেখা দিয়ে ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে ওই যুবক কয়েক বার বরেন্দ্র অফিসের ভেতর থেকে চুরি করেছে বলে জানা গেছে।

রুবেল হোসেন নওগাঁ পৌরসভার আনন্দনগর পশ্চিমপাড়া মহল্লার আবু বক্কর সিদ্দিক এর ছেলে। সোমবার রাত আড়াই টার দিকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

স্থানীয়, বরেন্দ্র অফিসের টেকনিশয়ান ও আনসার সদস্য সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র অফিসের ভেতরে পশ্চিম পাশে ওয়ার্কশপ। ওয়ার্কশপের পাশেই থাকার ব্যবস্থা টেকনিশয়ানদের। প্রতিদিন কাজ শেষে নষ্ট ট্রান্সফর্মার থেকে বের করা তামার তার ওয়ার্কশপের ভেতরে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

গত শুক্রবার সকালে ওয়ার্কশপের পাশে কিছুর তামার তার পড়ে ছিল। আনসার সদস্যদের কড়া সর্তকতা থাকায় সেদিন মালামাল চুরি করতে পারেনি। সোমবার রাত আড়াই টার দিকে ওয়ার্কশপে শব্দ হওয়ায় পাশে থাকা টেকনিশয়ানরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন তামার তার বাহিরে পড়ে আছে।

এসময় চোর রুবেল হোসেন ওয়ার্কশপের দরজার ওপর দিয়ে বেরিয়ে আসলে আটক করে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ১৪ কেজি ওজনের তামার তার সে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। যার বাজারদর ৬০০ টাকা কেজি হিসেবে ৮ হাজার ৪০০ টাকা।

নওগাঁ পৌরসভা ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান (বাবলু) মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুছলেখা নিয়ে তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এমন অভিজ্ঞ চোরকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

টেকনিশয়ান জোনহাস ও প্রদীপ বলেন, রাতের কোন এক সময় উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বরেন্দ্র অফিসের দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে চোর রুবেল হোসেন। রাত আড়াই দিকে ওয়ার্কশপের ভেতরে শব্দ পেয়ে বেরিয়ে এসে দেখি বাহিরে তামার তার পড়ে আছে। এর কিছু পর ওয়ার্কশপের ভেতর থেকে রুবেল বেরিয়ে আসলে তাকে আটক করা হয়। গত শুক্রবারেও চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল। ইতিপূর্বেও কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আনসার সদস্যরা বলেন, চোরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ইতিপূর্বে সে কয়েকবার চুরি করে নিয়ে গেছে বলে স্বীকার করে। এমন চোরকে পুলিশে সোপর্দ না করে মুচলেখা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সমশের আলী বলেন, চোর আটকের পর থানা পুলিশে অবগত করা হলে কাউন্সিলরের নিকট সোপর্দ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কাউন্সিলরের নিকট তাকে সোপর্দ করা হয়। যেহেতু তিনি জনপ্রতিনিধি। কিভাবে কি করবে এটা কাউন্সিলরের বিষয়।

এ ব্যাপারে নওগাঁ পৌরসভা ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান (বাবলু) বলেন, এইসব ছোটখাট চোরদের নিয়ে আমরাও বিব্রত। থানা পুলিশও তাদের নিতে চায় না। পরবর্তীতে আর চুরি করবে না মর্মে মুছলেখা নিয়ে তার(রুবেল হোসেন) স্ত্রী জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার চেহারা দেখে বুঝা যায় সে মাদক সেবন করে ও ছ্যাচকা চোর।

নওগাঁ সদর থানার ওসি-তদন্ত রাজিবুল হক বলেন, বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভেতরে চুরির সময় চোর আটক ও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কেউ অবগত করেনি।

মন্তব্য লিখুন :