শ্রমিকের কষ্টের টাকায় নেতাদের থাবা

বকেয়া বেতন না দিয়ে ১ মাস বন্ধ থাকার পর সাভারের আশুলিয়ায় আর.এস এ্যাপারেলস নামের একটি পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে। তবে সেই বেতনের কষ্টের টাকায় থাবা দিয়েছে শ্রমিক নেতারা বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। 

বুধবার (০৫ মে) সকালে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।  

শ্রমিকরা জানায়, কয়েকদিন আন্দোলনের পর কারখানা থেকে পাওয়া ৩ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে দেওয়া কথা থাকলেও শ্রমিকনেতারা মাত্র ১ লাখ ৯ হাজার টাকা দিয়েছে৷ নেতাদের বিরুদ্ধে শিল্প পুলিশ-১ এ প্রায় ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছে তারা।

এর আগেও গত ২৮ এপ্রিল শিল্প পুলিশ-১ পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ করে ভুক্তভোগী  শ্রমিকরা। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আর.এস এ্যাপারেলস চিত্রাশাইল আশুলিয়ায় অবস্থিত গার্মেন্টস কারখানা বকেয়া বেতন না দিয়ে ৬ এপ্রিল কারখানা বন্ধ করে দেয়৷ পরে শ্রমিক সংগঠনের সহযোগিতা চাইলে শিল্প পুলিশের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে শ্রমিকরা। তারই প্রেক্ষিতে গত ২৫ মে শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের সহযোগিতা বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ও ওয়ার্কাস ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবন তার অফিসে বেতন দেওয়ার কথা বলে শ্রমিকদের আসতে বলে। কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে নিয়ে শিল্প পুলিশ শ্রমিক নেতাদের কাছে ৩ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন। তার মধ্যে শ্রমিকদের মাঝে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা বন্টন করে বাকি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। যা গরিব, অসহায় শ্রমিকদের সাথে প্রতারণার শামিল।

অতএব উপরোক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্রমিকরা।

অভিযোগকারী শ্রমিক লাবনী বেগম বলেন, আমাদের তিন লাখ টাকা কারখানা থেকে ঠিকই দিয়েছিলো। কিন্তু জাগো বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মামুন ও জীবন আমাদের টাকা কম কম দিয়ে বাকি টাকা মাইরা খাইছে। আমরা কেউ কেউ মোটেও টাকা পায়নি। কেউ কেউ আবার দুই হাজার তিন হাজার করে সবাই পাইছে। যেখানে আমরা পামু ১০ হাজার সেখানে তারা দিছে ১৫০০। আমাদের অনেক শ্রমিক কান্নাকাটি করে চলেও গেছে। আমি চাচ্ছি আমাদের সাথে প্রতারণার করার জন্য বিচার হোক ও আমাদের টাকা ফেতর দেওয়া হোক। 

সেদিন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল হেলাল কারখানাটির শ্রমিক ও মালিকের সমস্যা সমাধান করেন এবং শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার জন্য ফেডারেশনের কাছে দ্বায়িত্ব দেন। আব্দুল হেলাল বাংলানিউজকে বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটার একটি তদন্ত হোক। আমি গিয়েছিলাম শ্রমিক নেতাদের কাছে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তারপর নেতারা কি করেছে না করেছে আমি জানি না৷ আর আমি চলে যাচ্ছি আমার বদলি হয়ে গিয়েছে। আমার নাম লিখে লাভ নেই। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই শ্রমিক নেতারা টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ করছে। তবে কম বেশি আশুলিয়ার ১১ টি সংগঠন এই টাকার ভাগ পেয়েছে বলে জানা গেছে। জাগো বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা মামুন বলছেন, আমি টাকা দিয়ে এসেছি জীবন তার অফিসে শ্রমিকদের টাকা দিয়েছে। কারখানার মালিক আমার পরিচত দেখে আমি গিয়েছি। আমি কোনো টাকা নেই নি।

তবে বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ও ওয়ার্কাস ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদুর রহমান জীবন বলেন, আমি ১৬ হাজার টাকা খরচ করেছি ৩০ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু সেখানে পুলিশ আর মামুন পরে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা শ্রমিকদের দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আর. এস এ্যাপারেলসের অংশিদার (মালিক) মোঃ কামাল বলেন, আমার কারখানার বড় ক্ষতি করেছে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা৷ আমি শ্রমিকদের বলেছিলাম তোমরা ফেডারেশনের কথা শুনে যেওনা ও কারখানাটি বন্ধ করো না। আমি কয়েকটাদিন পর সব বকেয়া পরিশোধ করবো। কিন্তু শ্রমিকদেরকে নেতারা উস্কে দিয়ে কারখানা বন্ধ করান। পরে গত ২৫ তারিখ শ্রমিকদেরকে সকল পাওনা ৩ লাখ টাকা শিল্প পুলিশের মাধ্যমে ফেডারেশনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ফেডারেশন শ্রমিকদের টাকা দিয়েছে কিনা আমি জানি না। শ্রমিক নেতারা আমাকে ফোন দিয়ে হুমকি দিছে। তাদের সাথে কথা বলতে বলছে।  

মন্তব্য লিখুন :