অতিবর্ষনে ২৩০০ হেক্টর বীজতলার ক্ষতি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চার দিনের টানা বর্ষণে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কৃষি জমির বেশিভাগ অঞ্চলে হাটু-কোমর সমান পানি জমে গেছে। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ, মধ্য চরমোন্তাজ, চরমন্ডল, চরলক্ষি, পূর্ব চরমোন্তাজ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে বীজতলার চারপাশ পানিতে ডুবে আছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার পাঁচশত চুরানব্বই হেক্টর আমন বীজতলা আবাদ করা হয়েছে এর মধ্যে দুই হাজার হেক্টর বীজতলা পানির নিচে রয়েছে।

এছাড়া আটশত চল্লিশ হেক্টর আউশ আবাদ করা হয়েছে যার তিনশত হেক্টর রয়েছে পানির নিচে, উপশী এক হাজার তিনশত চল্লিশ হেক্টর এর মধ্যে পানির নিচে রয়েছে এক হাজার বাহাত্তর হেক্টর, সব্জি চারশত পঞ্চাশ হেক্টর এর মধ্যে পানির নিচে একশত আশি হেক্টর।

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, চরমোন্তাজ ইউনিয়নে চারশত বায়ান্ন হেক্টর বীজতলার আশি শতাংশ পানির নিচে নিমজ্জিত, উফশী তিনশত বিশ হেক্টরের মধ্যে দুইশত ছাপ্পান্ন হেক্টর পানির নিচে এবং স্থানীয় একশত বত্রিশ হেক্টরের মধ্যে একশত পাঁচ হেক্টর পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।

স্থাণীয়রা জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অতিবর্ষণে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আগে বর্ষা মৌসুমে কৃষি জমির পানি খাল-নালার মাধ্যমে চরগঙ্গা স্লুইসগেট দিয়ে সরে যেত। কিন্তু বর্তমানে কৃষি জমি ঘেঁষে বয়ে যাওয়া সরকারি খাল-নালা ১০ বছর আগে দখল করে অন্তত ১০-১৫টি মাছের ঘের করেছে প্রভাবশালীরা। যার কারণে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্থাণীয় বাসিন্দা রহমান দফাদার ও জিয়া ফরাজি  বলেন, ‘সব জায়গায় ঘের। পানি নামার সুযোগ নেই। খাল-নালা বাঁধ দিয়ে ঘের করার কারণে পানি সরছে না।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে বলা আছে এবং আমি বলে দিয়েছি কোথায় যদি কোন বীজতলা বা পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয় তাৎক্ষণিক আমাকে জানাবেন।

মন্তব্য লিখুন :