কাঁচা মরিচের দাম কমায় চাষীরা হতাশ

বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম অত্যন্ত কমে যাওয়ায় মরিচ চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে নওগাঁর বাজারে মরিচের দাম ছিল আশানুরূপ। তবে প্রচুর আমদানি হওয়ায় নওগাঁর বাজার গুলোতে গত কয়েকদিন থেকে মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে সাধারন ভোক্তাদের মাঝে স্বস্থি ফিরলেও, চাষীরা হয়েছে হতাশ।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। গত এক মাস আগেও যেখানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারীতে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ওই মরিচ খুচরা বাজারে ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মরিচের দাম বেশি পাওয়া চাষিদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছিল। কিন্তু মরিচের দাম বেশি থাকায় সাধারন ভোক্তাদের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।

গত এক সপ্তাহ থেকে পাইকারিতে প্রতিকেজি মরিচ ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে প্রয়োজনের তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম। বগুড়াসহ কয়েকটি জেলা থেকে নওগাঁর বাজারগুলোতে মরিচ আসছে। এ কারণে মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে।

সবজি এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলার সদর উপজেলার আংশিক এলাকা, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলা। স্থানীয় সবজির চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মরিচ ক্ষেতের সমারোহ। প্রতিদিন বিকেলে ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে পরদিন বাজারে নেয়া হয়। এখন চলছে মরিচ তোলার মৌসুম। গেল কয়েক দিনে বৃষ্টি হওয়ায় মরিচ ক্ষেতে পানি জমায় গাছ কিছুটা শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষেত থেকে কম পরিমাণ মরিচ পাওয়া যাচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের তিলাবদলী গ্রামের মরিচ চাষী লিটন হোসেন বলেন, তিনি ১০ কাঠা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। এ পরিমাণ জমি থেকে সপ্তাহে দুইমণ মরিচ উঠানো হয়। মরিচ যখন পাইকারি ১০০ টাকা কেজি ছিল তখন একমণ বিক্রি করেছেন। পরের হাটে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে মরিচের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় কিছু অংশে গাছের পাতা গুটিশুটি মরে গেছে এবং মরিচে পঁচানি ধরেছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না।

নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মরিচ চাষী আব্দুল লতিফ বলেন, ১০ কাঠা জমি প্রস্তুত, শ্রমিক, সার ও আইলবাঁধতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আশ্বিন মাসে জমিতে চারা রোপণ করা হয়। চারা হয়ে উঠার পর কীটনাশক ও ভিটামিন দিতে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা খরচ হয়। প্রায় পাঁচ মাসের এ আবাদ। যদি ফসল ভাল হয় এই পরিমাণ জমি থেকে লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি সম্ভব।

নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার কৃষকদের একটি লাভজনক ফসল হচ্ছে মরিচ। তবে সময় মত সঠিক পরির্চযা করতে না পারলে এ ফসলে লাভবান হওয়া কঠিন। মরিচ গাছে অনেক সময় ভাইরাস হয়ে পাতাগুলো কুকরিয়ে (গুটিশুটি) হয়ে যায়। এজন্য ভাল বীজের চারা রোপন করতে হবে। আর বৃষ্টিতে যদি পঁচানি দেখা দেয় তাহলে কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারে। কৃষকদের সার্বিক ভাবে সহযোগীতা ও পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে র্সাবক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন :