সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ছাত্রসমাজ তার জবাবদিহিতা নিবে : ডাকসু ভিপি

বর্তমান সরকার পরপর তিনবার ক্ষমতায় রয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে তারা ইশতেহারে বলেছিলেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, ১ কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন কিন্তু সেই প্রতিশ্রতি কোথায়(?)। তাই সরকার যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে ছাত্রসমাজ তার জবাবদিহিতা আদায় করবে বলে মন্তব্য বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকরির আবেদন ফি কমানো, বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা, জাতীয় নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ণসহ ৮ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিদে’র ব্য্নাারে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান ও রাশেদ খান প্রমুখ।

নুরুল হক নূর বলেন, বেকারত্ব আমাদের সমাজে সংক্রামকের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে মুখরোচক নানা প্রতিশ্রতি দেয়, যার বেশিরভাগই ভাওতাবাজি, যার অধিকাংশেরই বাস্তবায়ন হয় না। তাই ছাত্রসমাজ ও সকল মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে আপনারা যেই শ্রম-পেশার মানুষ হোন না কেন আপনাদের অধিকার আদায়ে আপনাদেরই কথা বলতে হবে, প্রয়োজনে রাজপথে আসতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে হাসান আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি শেষ না হতেই চাকরির পেছনে ছুটতে হয় শিক্ষিত বেকারদের। অন্যান্য দেশে চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত বেকারদের ভাতা দেয় সরকার। কিন্তু আমাদের দেশে তার উল্টো হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে যে ৮দফা দাবি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। পরে তিনি ৮দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

দফাগুলো হলো- চাকরির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে; বিভাগীয় শহরে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে হবে; প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বার পৃথকভাবে প্রকাশ করতে হবে; সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ সকল নিয়োগের জন্য পিএসসির আদলে জাতীয় নিয়োগ প্যানেল গঠন করতে হবে; জাতীয় নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে; তথ্য যাচাইয়ের নামে অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে; বেকারত্ব নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে এবং দেশে চাকরিরত বিদেশী নাগরিকদের সংখ্যা কমিয়ে দেশীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে।

মানববন্ধনে আখতার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের যে অবস্থা, তাতে মনে হয় চাকরি চাওয়াটা আমাদের জন্য পাপ। এদেশের শিক্ষিত যুবকদের চাকরির আবেদন করতে করতে পকেট খালি হয়ে যায়। এই প্রথার পরিবর্তন করতে হবে। সকল ধরনের চাকরির আবেদন ফি ১০০ টাকার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারসহ ৪দফা দাবিতে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে’ নেতৃত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। আন্দোলনের মুখে সংসদে কোটা ব্যবস্থা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন