গ্রামে ফিরতে চান জবি শিক্ষার্থীরা, উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান

করোনা লকডাউনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে পুরান ঢাকায় আটকে থাকা জবি শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় শহরগুলোতে পৌঁছে দেয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর আবেদন করে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে বাংলাদেশে৷ দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের হার ও মৃত্যর সংখ্যা। পরিস্থিতি ক্রমাগত ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। এমন অবস্থায় সরকারের ডাকা লকডাউনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনেক শিক্ষার্থী ঢাকাতে আটকা পড়েছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দূরপাল্লার পরিববন বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না অনেকেই। অনিশ্চিত এই ঢাকার জীবন ছেড়ে বাড়ি ফিরতে চায় জবি শিক্ষার্থীরা। বাড়ি ফিরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাস প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়,  মহামারীর জন্য চলমান লকডাউন আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও ঈদের আগে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মেসের ভাড়া পরিশোধে, খরচ চালানোর জন্য এই লকডাউনেও পুরান ঢাকায় থেকে টিউশনি করে গেছি একটা আশা ছিল, লকডাউন ছাড়লে তারা বাড়ি যাবে কিন্তু সে আশাটি এখন অধরা থেকে যাচ্ছে।

বিগত কয়েকদিনে যার প্রাইভেট কার হাইসে বাড়ি গিয়েছেন তাদের সবারই প্রায় ১৫০০/২০০০/২৫০০ টাকা করে যাতায়াত খরচ লেগেছে। পুরান ঢাকায় যারা টিউশনির জন্য এতদিন থেকে গেছে আমাদের।

অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পক্ষে এত টাকা বহন করে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হবে না। মেসের ভাড়া, খাবার খরচ, যাতায়াত ভাড়া একসাথে সবগুলো বহন করা সম্ভবপর হচ্ছে না অন্যদিকে, আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হল নেই এবং এই লকডাউন ও ঈদে একাকী ঢাকা অবস্থান করাটাও শিক্ষার্থীদের পক্ষে অসম্ভব।

উল্লেখ্য, আরো বলা হয়, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই লকডাউন মহামারিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন দিয়ে পুরান ঢাকায় আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের ৮ টি বিভাগীয় শহরগুলোতে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিনীত মানবিক অনুরোধে রইল। লকডাউনে এই ক্রান্তিলগ্নে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমাদের জবিয়ানদের জন্য এই মানবিক উদ্দ্যোগটি গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চির কৃতজ্ঞ থাকিবে।


মন্তব্য লিখুন :