জবিতে পূজায় পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

করোনা মহামারীতে আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দুর্গাপূজার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির ঠিক আগ মূহুর্ত থেকেই নিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে।

৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে শুরু হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এদিকে আবার ১১অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। ৫ দিনের পুজার বিপরীতে ছুটি মাত্র ২ দিন। পরিসংখ্যান বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ ষষ্ঠী পূজাতেও পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্যমতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর সকল সনাতনী শিক্ষার্থীরা এই পুজাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিকল্পনা করে থাকে। পরিবারের সাথে পূজায় সময় কাটাবে। করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় যদি বন্ধ থাকতে পারে তাহলে পূজার ১ সপ্তাহ পরে পরীক্ষা নিলেই হতো। এতে গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মেস খুজে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সময় পেত। আর সনাতনী শিক্ষার্থীরা পরিবারের সাথে পূজার আনন্দও ভাগাভাগি করতে পারতো।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রায় সানি বলেন, "আমার মতে পরীক্ষার রুটিন গুলো শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া উচিৎ। এটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত চিন্তার জায়গা। শুধুমাত্র পূজার জন্য না, যেকোন ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝখানে পরীক্ষা নেয়া সেই ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সমতুল্য বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পিয়াল দাস অনুপ বলেন, "সনাতন ধর্মের প্রধান উৎসব হচ্ছে দূর্গা পূজা। কিন্তু এত দিন করোনার কারণে বন্ধ থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক পূজার মধ্যে পরীক্ষার ডেট দিল। যা একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে মেনে নিতে খুব খারাপ লাগছে। কারণ একদিকে পরীক্ষার একটা চাপ আর অন্য দিকে পূজার আনন্দ একসাথে সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো তাই পূজার পরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ভালো হতো। পূজা আর পরীক্ষা সময়সূচি একসাথে হওয়ায় একটু বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে।

গণিত বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভাশীষ মন্ডল শুভ বলেন, গত বছর তো করোনার কারনে বাড়ি গেলাম না আর এবার পরীক্ষার জন্য যাওয়া হবেনা। ৭ তারিখ একটা পরীক্ষা মাঝে পূজা তারপর আবার দশমীর পরদিন পরীক্ষা। আর পরীক্ষার জন্য পড়া তো লাগবেই। প্রশাসন পরীক্ষাটা পূজার এক সপ্তাহ পরে শুরু করতে পারতো। তাতে খুব বেশি ক্ষতি হতো না।

এদিকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ২টি পরীক্ষা পূজার নির্ধারিত ছুটির দিনে দেওয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ এবং ১৪ অক্টোবর পপুলেশন জিওগ্রাফি নামক কোর্স দুটির পরীক্ষার কথা রুটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যপারে লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "পূজার মধ্যে মধ্যে কোনো পরীক্ষা হবেনা। রুটিন আমাকে দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনো ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে রুটিন দেয় নাই। এজন্য আমি এটা বলতে পারছি না। আমি এটা খোঁজ নিবো। আর পূজার মধ্যে কোনো পরীক্ষার ডেট থাকলে তা সংশোধন করা হবে।"

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস বলেন পূজার মধ্যে তো কোনোভাবে পরীক্ষা দেওয়া উচিত না। পূজার কমপক্ষে তিন থেকে চারদিন আগে এবং পূজার তিন থেকে চারদিন পরে পরীক্ষা দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আমার মতে ৮ অক্টোবরের পরে পরীক্ষা দেওয়া যাবেনা। আবার ১৮ অক্টোবরের আগেও পরীক্ষা দেওয়া যাবেনা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অরুন কুমার গোস্বামী  বলেন, "পরীক্ষা হবে পূজাও হবে। যে পরীক্ষার্থী, তার মাথায় পরীক্ষা এবং পূজা দুইটাই থাকবে। তবে পরীক্ষার ডেটটা পূজার তিনদিন পর হলে পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় নিয়মনীতি পালন করার সুযোগ পাবে। আগে পরীক্ষার্থীদের ওলরেডি দেড় বছর সময় নষ্ট হয়েছে, এটাও চিন্তা করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন :